ডাল খেলে অনেকেরই গ্যাস ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হয়। এর কারণ ডালে থাকা ‘রাফিনোজ’ নামের জটিল শর্করা, যা সহজে ভাঙে না বা হজম হয় না। এই শর্করা অন্ত্রে পৌঁছালে সেখানকার ব্যাকটেরিয়া তা গাঁজন করে। ফলে পেটে গ্যাস তৈরি হয়।
এ ছাড়া ডালে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ থাকে। হজমের জন্য খাদ্যআঁশ উপকারী হলেও হঠাৎ করে বেশি পরিমাণে আঁশ খেলে পেট ফাঁপা ও বদহজম হতে পারে।
ডালে ‘লেকটিন’ ও ‘ফাইটেটস’ নামের কিছু উপাদানও থাকে, যেগুলোকে অ্যান্টিনিউট্রিয়েন্ট বলা হয়। ডাল ঠিকমতো রান্না না হলে এসব উপাদান হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। ডালে থাকা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হজম করতেও কারও কারও অসুবিধা হতে পারে। বিশেষ করে হজমশক্তি দুর্বল হলে গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন?
গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমাতে ডাল ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করা উচিত। রান্নার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলেও উপকার পাওয়া যায়। এতে ডাল দ্রুত সিদ্ধ হয় এবং কিছু অ্যান্টিনিউট্রিয়েন্টের পরিমাণ কমতে পারে। তবে শুধু ভিজিয়ে রাখলেই সব অ্যান্টিনিউট্রিয়েন্ট দূর হয় না। ডাল ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাওয়াও জরুরি।
ডাল ভিজিয়ে রেখে রান্না করলে অনেকের ক্ষেত্রে তা সহজে হজম হতে পারে। তবে ভেজানোর সময় ডালের ধরন অনুযায়ী আলাদা হয়।
কোন ডাল কতক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন?
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুগ ডাল, লাল মসুর ও অড়হর ডাল ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা ভালো।
খোসাসহ মুগ ডাল, খোসাসহ বিউলির ডাল ও ছোলার ডাল ২ থেকে ৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে।
রাজমা, কাঁচা ছোলা ও কাবলি ছোলা প্রায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। বিশেষ করে রাজমা পর্যাপ্ত সময় ভিজিয়ে রেখে পানি ফেলে নতুন পানিতে ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাওয়া জরুরি।
এমএমটি
-20261017072926.jpg&w=1440&q=75)