প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টির আশঙ্কায় প্রায় অচল হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। দ্বীপটির দিকে ধেয়ে যাচ্ছে টাইফুন চাম্পি। ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমশ দুর্বল হয়ে এলেও সরাসরি তাইওয়ানের স্থলভাগে আঘাত হানার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে এরইমধ্যে বাতিল হয়েছে শত শত ফ্লাইট।
চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি ছিল চাম্পি। একপর্যায়ে এটি সুপার টাইফুনে রূপ নিয়েছিল। দুর্বল হয়ে এলেও ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার (১১৯ মাইল) রয়েছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ)।
বিজ্ঞাপন
সিডব্লিউএর কর্মকর্তা লিউ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর বড় ঝড়গুলোর মধ্যে এটির বিস্তৃতি অন্যতম। ঝড়টির গতি কমে গেলেও দীর্ঘ সময় ধরে তাইওয়ানে প্রবল বাতাসের প্রভাব থাকবে।
উপকূলীয় শহরগুলোতে মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে তাইপেসহ উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় প্রায় এক মিটার (তিন ফুটের বেশি) বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইলান কাউন্টিতে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত ক্রমেই বাড়ছে। শুক্রবার ওই এলাকার কাছ দিয়ে টাইফুনটি অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
তাইওয়ানের আবহাওয়াবিদদের হিসাবে, টাইফুন চাম্পির বিস্তৃতি প্রায় ৩২০ কিলোমিটার (২০০ মাইল)। এর ফলে ঝড়টি প্রায় পুরো তাইওয়ানজুড়েই প্রভাব ফেলতে পারে। আবহাওয়াবিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী হতে পারে।
ঝড়ের কারণে শুক্রবার তাইওয়ানের শেয়ারবাজারও বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে চীনের উপকূলের কাছে অবস্থিত তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত কিনমেন দ্বীপপুঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তর স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকবে।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবারের সব ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বাতিল করা হয়েছে ৬৬৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণে চলাচলকারী উচ্চগতির রেলসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
রাজধানী তাইপেতে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। তবে কম পরিসরে হলেও পাতালরেলসহ গণপরিবহন চালু রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরএ
