সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, হুথিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, সে সিদ্ধান্ত তিনি এখনো জানাননি।
হুথিদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প শুধু বলেন, “আসলে হুথিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। এটা মোটেও ভালো না।”
এদিকে ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম আগামী শনিবার (১৮ অক্টোবর) পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) হামলায় একজন পাইলটসহ অন্তত তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হন। বিমানবন্দরটিতে শনিবারের (১০ অক্টোবর) হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এরপর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রবিবার (১১ অক্টোবর) সেখানে নতুন হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। সোমবার (১২ অক্টোবর) কিং খালেদ বিমান আরেক দফা হামলায় চালায় হুথিরা, তবে সেই হামলা ঠেকিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
বিমানবন্দরের পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতেও ধারাবাহিক হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে হুথিদের বিরুদ্ধে।
ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক বাহিনীর সঙ্গে লড়ছে হুথিরা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে স্থলযুদ্ধে সহায়তা করছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লে এই সংঘাতও তীব্র হয়ে ওঠে।
এদিকে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ধারাবাহিক হামলা ঠেকাতে পারছে না, তা তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা এপি-কে এ তথ্য জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দুই কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, হুথিরা প্রথমে কয়েকটি ড্রোন পাঠিয়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য পথ তৈরি করে। এরপর ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি সমন্বিত হামলা চালানো হয়, যার কয়েকটি বিমানবন্দরে পৌঁছে যায়।
হুথিদের হাতে এমন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর ওয়ারহেড উড্ডয়নের সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে সৌদি আরবের ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাসহ অন্যান্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য এগুলো ঠেকানো কঠিন হয়ে উঠছে।
এপিকে এক কর্মকর্তা বলেন, ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ব্যাপারে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেন আগে থেকে কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের সমালোচনা করলেও ওয়াশিংটন এতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে সৌদি আরবকে ইতিমধ্যে কিছু সামরিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়ালে পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হুথিদের এক কর্মকর্তা।
হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করব না; বরং যুক্তরাষ্ট্র এবং এই অঞ্চলে তাদের সব স্বার্থকে লক্ষ্য করে দ্রুত ও বেদনাদায়ক জবাব দেয়া হবে।”
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
