পাহাড়ে নানা সংকট, সমাধানে ৮ দফা দাবি ছাত্র-যুবকদের
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->পাহাড়ে রাজনৈতিক-সামাজিক নানা সংকট সমাধানে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, পার্বত্য শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যেভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিনটি পৃথক জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবিও তুলেছে তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পুরান পল্টন মোড়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তারা এ দাবি জানিয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য দীপক শীলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, হিল উইমেনস ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শান্তিদেবী তঞ্চংগা, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ)-এর সভাপতি গৌতম শীল এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতারা। এ সময় নেতাকর্মীরা পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ করেন; তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন
গত ১০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্র সচিবকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি আছে পাহাড়ি অঞ্চলের ছাত্র-যুবকদের। তাই এই কমিটিগুলোর বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছে তারা।
তাদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদে পাহাড়ি কোনো নেতাকেই আসীন করতে হবে।
আরও পড়ুন
পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও কার্যকর করা; চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ; পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করার দাবি তুলেছেন পাহাড়ি যুবক, ছাত্ররা।
সমাবেশে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শোষণ ও বঞ্চনার অবসানের প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমানে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি করছে।
সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। অবিলম্বে চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
জয়ন্ত সাহা/এসএন
আরও পড়ুন
মিসাইল ফায়ারিংয়ের সফল মহড়া চালাল বিমানবাহিনী
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ছবি: আইএসপিআর
-->বাংলাদেশ বিমানবাহিনী সফলভাবে ‘এফএম- ৯০ লাইভ মিসাইল’ ফায়ারিং মহড়া সম্পন্ন করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কক্সবাজারের নিদানিয়ায় অবস্থিত এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জে (সিএডিএফআর) এ মহড়া চালানো হয়।
মহড়ায় উপস্থিত থেকে বিমানবাহিনীর ৩০১ স্যাম ইউনিটের পরিচালিত মিসাইল ফায়ারিং কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
আরও পড়ুন
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিমানবাহিনীর প্রধান লাইভ মিসাইল ফায়ারিং কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং মহড়ার সফল কার্যক্রম সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন। সফলভাবে মহড়া সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও পেশাদারত্ব বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এ সময় বিমানবাহিনীর প্রধান বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান। পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যদের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
আইএসপিআর আরও জানায়, মহড়া পরিদর্শনের সময় সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (রক্ষণাবেক্ষণ), বিমানবাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক, সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ এবং বিমান সদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলমগীর হোসেন/সালমান/
আরও পড়ুন
সরকারি মাধ্যমিকে ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ, কোন শ্রেণিতে কী পদ্ধতি?
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
খবরের কাগজ গ্রাফিকস
-->দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা হয়েছে। আর দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবশ্যিকভাবে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম দিতে পারবে। তবে ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট পছন্দ করলে দুটি বিদ্যালয়ে পছন্দক্রম সম্পাদন হয়েছে বলে গণ্য হবে। একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক আবেদন করলে সকল আবেদন বাতিল হবে।
আরও পড়ুন
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিপ্রক্রিয়া সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। ভর্তি কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে লটারির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর তালিকা প্রস্তুত করার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমান তালিকাও প্রস্তুত রাখতে হবে। ভর্তি কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমান তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আরও পড়ুন
দ্বিতীয় থেকে নবমে লিখিত পরীক্ষা
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
নীতিমালার নিয়ম অনুযায়ী- দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর তালিকা প্রস্তুত করার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমান তালিকা প্রস্তুত রাখতে হবে। ভর্তি কমিটি নির্ধারিত তারিখে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমান তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষার মান বণ্টন ও সময়
প্রাথমিক স্তর অর্থাৎ, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এরমধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ ও গণিতে ২০ নম্বরের প্রশ্নপত্র থাকবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় হবে ১ ঘণ্টা।
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের ওপর। এরমধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় হবে ২ ঘণ্টা।
নীতিমালার নির্দেশনামতে, ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শূন্য আসনের সংখ্যা উল্লেখ করে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করবেন। এছাড়া ভর্তি কমিটি জাতীয়, স্থানীয় পত্রিকা এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেবে।
কাজল/এসএন
আরও পড়ুন
বিরোধী দলের ছায়া সংসদ গঠনে বাধা নেই: ডেপুটি স্পিকার
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে বিরোধী দল ছায়া সংসদ গঠন করতে পারে এতে কোনো বাধা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র সুসংহত করতে সরকারি ও বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর সংস্কার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা জরুরি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) শরৎ উৎসব ও ৩১তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার সংসদীয় ব্যবস্থার আদলে বিরোধী দলের ছায়া সংসদ থাকলে সরকারের নীতি, মন্ত্রিসভার কার্যক্রম ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে। সরকারের ভুলত্রুটি চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন এবং নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। সংসদ কার্যকর না থাকলে দেশ আবারও বিপথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কার্যকর সংস্কার না হলে সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগের সুফল জনগণের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।
আরও পড়ুন
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুধু ডিগ্রি অর্জনের জন্য নয়; মেধা, নৈতিকতা ও গবেষণার মাধ্যমে যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, অধ্যাপক হোসনে আরা বেগম। ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
এলিস/নাঈম
আরও পড়ুন
বিটিভিকে বাণিজ্যিক চ্যানেল না করার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) বাণিজ্যিক চ্যানেলে রূপান্তরিত করার পরিবর্তে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করার পরামর্শ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে এর অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনে সামাজিক প্রভাব, প্রাসঙ্গিকতা এবং জনগ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছেন কমিটির সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে সংরক্ষিত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলের মধ্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আরও পড়ুন
বিটিভির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বৈঠকে বলা হয়, সংবাদের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। পাশাপাশি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে বাতিল করা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অধীন সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এলিস/নাঈম
