সৌদি আরব একটি দীর্ঘ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে। যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও গোয়েন্দা সহায়তা কেনার সক্ষমতা তাদের আছে। যুদ্ধে বড় ক্ষয়ক্ষতি হলে সেটাও তারা সামাল দিতে পারে। কিন্তু এার মানে এই নয় যে সৌদি আরব হুতিদের পরাজিত করতে পারবে।
খবরে বলা হচ্ছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে দুবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেন। তিনি হুতিদের ওপর সরাসরি হামলা চালাতে ওয়াশিংটনকে অনুরোধ করেন। ট্রাম্প তাতে রাজি হননি। তবে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য ও হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে।
এটা তাৎপর্যপূর্ণ খবর। এটি সৌদি আরবের সামরিক শক্তির ঘাটতির বিষয়টাকে সামনে আনছে না; বরং রিয়াদ সম্ভবত বুঝতে পারছে, হুতিদের নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটা শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়।
এ ক্ষেত্রে সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের মোখা দখল করেছে হুতিরা। একই সঙ্গে তারা বাব আল-মানদেব প্রণালির প্রবেশমুখে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান-সমর্থিত বাহিনীগুলোর হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথে তেল পরিবহনের জন্যই এই পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছিল।
ফলে সৌদি আরব এখন এমন এক কৌশলগত সমস্যার মুখে পড়েছে, যা কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সামরিকভাবে পরাজিত করার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। দেশটিকে এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে হচ্ছে, যার বড় অংশ নির্ভর করছে অল্প কয়েকটি অত্যন্ত মূল্যবান অথচ ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার ওপর।
সৌদি আরব দখল করার প্রয়োজন হুতিদের নেই। তাদের জন্য সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত করে তুলতে পারাটাই যথেষ্ট।
বাব আল-মানদেব শুধু আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র নয়। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সংকীর্ণ প্রবেশমুখ। এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর হুতি বাহিনী কৌশলগত পেরিম দ্বীপে পৌঁছেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক প্রবেশপথের আরও কাছে চলে এসেছে তারা।
সৌদি আরবের হাতে বিপুল সামরিক শক্তি
কাগজে-কলমে হুতিদের তুলনায় সৌদি আরবের সামরিক শক্তি অনেক গুণ বেশি। ২০২৫ সালে দেশটি সামরিক খাতে আনুমানিক ৮ হাজার ৩২০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে বিশ্বে সৌদি আরবের অবস্থান এখন অষ্টম। দেশটির হাতে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্র ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারেরও ব্যাপক সুযোগ রয়েছে তাদের।
অন্যদিকে হুতিদের হাতে অনেক কম অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। তারা একটি অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে দুর্গম ভূখণ্ডগুলোর একটিতে তাদের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ। তা সত্ত্বেও প্রথাগত সামরিক শক্তিতে সৌদি আরব বিপুল শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হওয়ার পরও তা কখনোই চূড়ান্ত কৌশলগত বিজয়ে পরিণত হয়নি।
২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ানোর সময় সৌদি আরবের হাতে ছিল অনেক বড় বিমানশক্তি। তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্যও ছিল স্পষ্ট—ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত হতে না দেওয়া এবং মিত্র সরকারকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। বছরের পর বছর ধরে চলা বিমান হামলায় হুতিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের অগ্রযাত্রার গতি কমেছে। কিন্তু সৌদি আরব যে রাজনৈতিক ফলাফল চেয়েছিল, তা আসেনি।

এ অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—প্রতিপক্ষ যদি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থেকে বারবার শক্তি পুনর্গঠন করতে পারে এবং প্রথাগত যুদ্ধের কাঠামোর বাইরে তৎপরতা চালাতে পারে, তাহলে শুধু বিমানশক্তি দিয়ে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করা কঠিন। গত এক দশকে হুতিরা সামরিক শক্তির এই অসমতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে।
আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্টের (এসিএলইডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে ২০২২ সালের এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ডে প্রায় এক হাজার রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। এ ছাড়া সাড়ে ৩০০টির বেশি পৃথক ড্রোন হামলা চালায় তারা।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সময়ের সঙ্গে এসব হামলার ধরন বদলেছে। ২০১৫ সালে হুতিদের রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্র ১৫ শতাংশে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯ শতাংশে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় ড্রোন হামলার সংখ্যাও ক্রমেই বাড়তে থাকে।
এই পরিবর্তন সৌদি আরব ও হুতিদের কৌশলের মৌলিক পার্থক্যটি সামনে আনে। সৌদি আরব সাধারণত হুতিদের সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্র ধ্বংস এবং তাদের হামলার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে চেয়েছে। অন্যদিকে হুতিদের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোকে অনিরাপদ করে তোলা। সৌদি আরবের কৌশলটিকে বলা যায় ‘শাস্তি দেওয়ার কৌশল’। হুতিদের কৌশলটি ‘সক্ষমতা অকার্যকর করার কৌশল’।
একটি সামরিক শক্তি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু ছড়িয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রবাহিনীর পেছনে যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রণোদনা কাজ করে, তা সহজে ধ্বংস করা যায় না। একটি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব। কিন্তু পরের ড্রোনটি যে অন্য কোনো দুর্বল জায়গায় আঘাত হানবে না, তার নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন। একটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালানো যায়। কিন্তু যে ভৌগোলিক অবস্থান প্রতিপক্ষকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের প্রবেশমুখে পৌঁছানোর সুযোগ দেয়, বোমা মেরে সেই ভূগোল বদলে দেওয়া যায় না।
২০১৯ সালে সৌদি আরবের আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় হামলা এই দুর্বলতা নাটকীয়ভাবে সামনে এনেছিল। ওই হামলায় সাময়িকভাবে সৌদি আরবের অর্ধেকের বেশি তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বিশ্বে মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যাহত হয়।
হামলাটি ইরান বা ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো হয়েছিল, নাকি হুতিদের দাবি অনুযায়ী তারাই এটি চালিয়েছিল, এই বিতর্কের বাইরে এর কৌশলগত শিক্ষা ছিল স্পষ্ট। তুলনামূলক কম খরচের একটি অসম হামলাও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সামরিক শক্তিধর দেশগুলোর একটির ওপর বিপুল ক্ষতি চাপিয়ে দিতে পারে।
এ কারণেই সৌদি আরবের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে কৌশলগতভাবে অজেয় থাকার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

হুতিরা এখন আর শুধু ইয়েমেনের জন্য লড়ছে না
২০২৬ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, হুতিদের হুমকি এখন আর মূলত ভূখণ্ডকেন্দ্রিক নয়। এটি ক্রমেই ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। মোখা দখল এবং পেরিম দ্বীপ ও বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা এ অঞ্চলের কৌশলগত মানচিত্র বদলে দিয়েছে।
বাব আল-মানদেব শুধু আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্র নয়। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সংকীর্ণ প্রবেশমুখ। এই প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর হুতি বাহিনী কৌশলগত পেরিম দ্বীপে পৌঁছেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক প্রবেশপথের আরও কাছে চলে এসেছে তারা।
সৌদি আরবের জন্য এ অগ্রগতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহু বছর ধরে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিনিয়োগ করে আসছে রিয়াদ। এই কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া যায়।
হুতিদের শক্তির জায়গাটিও এখানে। অর্থ, অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতায় তারা সৌদি আরবের ধারেকাছেও নেই। কিন্তু অসম যুদ্ধের সুবিধা তাদের পক্ষে। একটি সস্তা ড্রোন ঠেকাতে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়। একটি পাইপলাইনে সফল হামলাই বিপুল তেল রপ্তানি ব্যাহত করতে পারে। কোনো ট্যাংকার না ডুবিয়েও জাহাজে হামলার বিশ্বাসযোগ্য হুমকি বিমার খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।
কিন্তু বর্তমান সংঘাতের ভৌগোলিক বাস্তবতা এখন সৌদি আরবের সেই কৌশলকেই ঝুঁকির মুখে ফেলছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের চাপ রয়েছে। বাব আল-মানদেব ক্রমেই হুতিদের হুমকির মুখে পড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এই পাইপলাইন বন্ধ থাকলে বিশ্বে মোট তেল সরবরাহের ৪ শতাংশ পর্যন্ত ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এরই মধ্যে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
পরিচিত অর্থে এটি এখন আর প্রথাগত যুদ্ধ নয়। বরং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক পথগুলো কতটা নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ থাকবে, তা নিয়েই লড়াই চলছে। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান ও তার মিত্র বাহিনীর সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র দখল করার প্রয়োজন নেই। এমনকি সব নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ারও দরকার নেই। তাদের জন্য সৌদি জ্বালানি যে পথ দিয়ে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়, সেই পথগুলোকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলাই যথেষ্ট।
হুতিদের পরাজিত করার সামর্থ্য কি সৌদি আরবের আছে?
সৌদি আরবের হুতিবিরোধী সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সংশয় নেই। রিয়াদ বিমান হামলা জোরদার করতে পারে, গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে পারে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে পারে। হুতিদের সামরিক অবকাঠামোর বড় ক্ষতি করার সামর্থ্যও তাদের আছে। প্রশ্ন হলো, তাতে কি হুতি সমস্যার সমাধান হবে?
ব্যাপক সামরিক অভিযান হুতিদের উৎক্ষেপণস্থল ও কমান্ড অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে সৌদি তেল স্থাপনা, শহর, বন্দর ও জাহাজ চলাচলে হামলা বাড়তে পারে। আবার রিয়াদ সংযত থাকলে হুতিরা বাব আল-মানদেব ঘিরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে পারে।
সৌদি আরবের সংকট এখানেই—সংযম ও সংঘাত বৃদ্ধি, দুই পথেই ঝুঁকি আছে। এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্পের কাছে রিয়াদের সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি দেখতে হবে।
যুবরাজ সালমান সম্ভবত ওয়াশিংটনকে সৌদি আরবের হয়ে যুদ্ধে নামানোর চেয়ে মার্কিন সামরিক শক্তিকে প্রতিরোধের সমীকরণে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরাসরি হামলায় ট্রাম্পের অসম্মতি একটি নতুন বাস্তবতা সামনে এনেছে—সৌদি আরবের প্রতিটি নিরাপত্তা সংকটের ঝুঁকি যুক্তরাষ্ট্র নেবে, এমন নিশ্চয়তা আর নেই।
হুতিদের শক্তির জায়গাটিও এখানে। অর্থ, অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতায় তারা সৌদি আরবের ধারেকাছেও নেই। কিন্তু অসম যুদ্ধের সুবিধা তাদের পক্ষে। একটি সস্তা ড্রোন ঠেকাতে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে হয়। একটি পাইপলাইনে সফল হামলাই বিপুল তেল রপ্তানি ব্যাহত করতে পারে। কোনো ট্যাংকার না ডুবিয়েও জাহাজে হামলার বিশ্বাসযোগ্য হুমকি বিমার খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।
আর বাব আল-মানদেবের মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সাময়িকভাবে অচল হলে তার অভিঘাত ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববাণিজ্যে।
তাই হুতিদের হুমকি তাদের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড কিংবা অস্ত্রের সংখ্যা দিয়ে মাপলে ভুল হবে। আসল বিষয় হলো, তারা কত কম খরচে সৌদি আরব ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর কত বড় কৌশলগত অনিশ্চয়তা চাপিয়ে দিতে পারে।
হুতিরা সৌদি আরবের এমন এক দুর্বলতা সামনে এনেছে, যার সমাধান শুধু অর্থ, অস্ত্র কিংবা উন্নত সামরিক প্রযুক্তি দিয়ে সম্ভব নয়। সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে অনেক লড়াইয়ে জিততে পারে। কিন্তু সংঘাতের কৌশলগত সমীকরণ বদলাতে না পারলে হুতিদের হয়তো যুদ্ধ জেতার প্রয়োজনই হবে না।
রনি পি সাসমিতা ইন্দোনেশিয়া স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক অ্যাকশন ইনস্টিটিউশনের জ্যেষ্ঠ আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক।
মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
