পুজোর ছুটিতে বেড়াতে গিয়ে রাশিরাশি বরফ পেয়ে বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস পর্যটক মহলে। তুষারাবৃত উত্তর এবং পূর্ব সিকিমের উঁচু এলাকা। ভারত-তিব্বত সীমান্তে ঐতিহাসিক প্রাচীন সিল্ক রুট জুলুকে পাহাড়ের গায়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলা ৩২টি হেয়ারপিন বাঁক নেওয়া রাস্তা জুড়ে বরফের মেলা। ইউমথাম ভ্যালিতেও হালকা তুষারপাতের পর পেঁজা তুলোর মতো বরফ গাছের ডালে দোল খেতে দেখে আত্মহারা পর্যটকেরা। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ও পূর্ব সিকিমের উঁচু এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে রয়েছে। আকাশ মেঘলা। হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যে কোনও মূহুর্তে ফের ভারী তুষারপাত হতে পারে। এবার দেবীপক্ষের সূচনা থেকেই তুষার চাদরে মুখ ঢেকেছে পূর্ব সিকিমের ভারত-তিব্বত সীমান্তের নাথু-লা পাস, জুলুক, নাথাং ভ্যালি। উত্তর পূর্ব সিকিমের জুলুক পাহাড়ের গায়ে বাঁক নেওয়া রাস্তা জুড়ে বরফের মেলা।
সিকিমের জিরো পয়েন্ট, ইউমথাম ভ্যালি, লাচুং এবং আশপাশের উঁচু এলাকাও শ্বেতশুভ। এবার মহালয়াতে প্রকৃতি যেন দু’হাত খুলে উজার করে দিয়েছে। পূর্ব সিকিমের ১৪ হাজার ২০০ ফুট উঁচু নাথু-লা অথবা ১০ হাজার ফুট উঁচু জুলুকে দফায় দফায় ভারী তুষারপাত হয়েছে। গোটা সীমান্ত এক মায়াবী শীতকালীন রূপকথার দেশ হয়ে ওঠে। এরপর তীব্রতা কমলেও হালকা তুষারপাত অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়, রাস্তা সবই শ্বেতশুভ্র বরফের চাদরে তলিয়েছে। রাস্তা পিছল হয়েছে। দেখা দিয়েছে বিপজ্জনক ‘ব্ল্যাক আইস’। বাতাসে কমেছে অক্সিজেনের মাত্রা। তার উপর দ্রুত আবহাওয়া পরিবর্তন ঘটছে। যদিও পর্যটকরা হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা উপেক্ষা করেই নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগের নেশায় ছুটছেন। পর্যটন সংস্থাগুলো সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোর ছুটিতে ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। হেল্প টুরিজম সংস্থার কর্ণধার রাজ বসু বলেন, “এবার প্রকৃতি নিজেকে উজার করে দিয়েছে। এই সময় তুষারপাত পর্যটন শিল্পের পক্ষে খুবই ভালো। আশা করছি পর্যটকদের ভিড় বাড়বে।” তিনি জানান, শুধু পূর্ব সিকিম নয়। উত্তর সিকিমের জিরো পয়েন্ট, ইউমথাং ভ্যালি, লাচুং এবং আশপাশের উঁচু এলাকায় পর্যটকরা যাচ্ছেন। এবার অক্টোবর মাসের শুরু থেকে ওই পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে তুষারপাত চলছে। নভেম্বরে সেটা বেড়েছে। দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর সিকিমের লাচেন, লাচুং এবং গুরুদংমার লেকের রাস্তা পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পুজোর ছুটিতে বাঙালি পর্যটকদের ভিড় রেকর্ড ছুঁয়েছে। অন্যদিকে সিকিম সরকার পর্যটক টানতে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করেছে।
সিকিমের সবচেয়ে বড় এই উৎসব ‘দাশাইন’ ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। রাজ্য জুড়ে উৎসবের ছুটি থাকায় গ্যাংটকের এমজি মার্গ-সহ সমস্ত হোটেল ও হোমস্টেগুলোতে ব্যাপক বুকিং রয়েছে। শেষ মুহূর্তের ভিড় ও সমস্যা এড়াতে ট্রাভেল অপারেটররা পর্যটকদের গাড়ি এবং পারমিট আগে থেকে বুক করার পরামর্শ দিয়েছেন। গ্যাংটকের দ্য রিজ পার্কে সিকিম আর্টস অ্যান্ড লিটারেচার উৎসব শুরু হচ্ছে ২৮ অক্টোবর। চলবে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। এছাড়াও রয়েছে অ্যাডভেঞ্চার টুরিজম ফেস্টিভ্যাল। নামচি জেলার নামথাং-এ ওই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। শুরু হবে ১ নভেম্বর। চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। সব মিলিয়ে একদিকে তুষারপাত অন্যদিকে বর্ণময় উৎসবের সমারোহে জমজমাট সিকিম।
