শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুই পক্ষ এক হয়েছে। রাজশাহীর জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুর্গোৎসব উপলক্ষে রংপুর ও চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া রাজশাহীর একটি জনসভায় অংশ নিয়েছেন তিনি। সকালে রাজধানী থেকে প্রথমে রংপুর, পরে রাজশাহী এবং রাতে চট্টগ্রামে যান তিনি।
রাজশাহী: বেলা ৩টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেন।
শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।”
রংপুর: দুপুর ১২টার দিকে রংপুর নগরের ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। মন্দির কর্তৃপক্ষ তাকে বরণ করে নেয়। এ সময় তিনি শিশুদের সঙ্গে সেলফি তোলেন এবং পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন। মন্দিরের উন্নয়নে তিনি ১০ লাখ টাকার চেক দেন।
সেখানে তিনি বলেন, “অতীতের রাজনীতি পরিবর্তন করতে চাই। পরিবর্তনের বড় শক্তি জনগণ। অতীতের মতো, জনগণকে পাশে নিয়েই সরকার এগিয়ে যেতে চায়।” তিনি আরও বলেন, যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা ভোট দেননি, সরকার সবার জন্যই কাজ করতে চায়।
চট্টগ্রাম: সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সরাসরি রহমতগঞ্জের জেএম সেন পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৭১ সালে কোনো ধর্ম দেখিনি, শুধু দেখেছি মুক্তিযুদ্ধ। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে কেউ জিজ্ঞেস করেনি, গুলি খাওয়া মানুষটি কি মুসলমান নাকি হিন্দু, বৌদ্ধ নাকি খ্রিস্টান। আগামীর বাংলাদেশেও ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনাদের সামনে এটুকু বলার জন্য উপস্থিত হয়েছি যে, দেশ আপনার, দেশ আমার, আমাদের সকলের। আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যে-যাই হই না কেন, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। আমাদের একমাত্র পরিচয়, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক।”
বিআলো/শিলি