ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের অভিযান শুরুর আগেই দুশ্চিন্তার কালো ছায়া বাংলাদেশ শিবিরে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমকে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতি শুরুর আগেই ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। তবে এই অনিশ্চয়তার মধ্যে স্বস্তির খবর দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তরুণ ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। সাফে খেলতে আসবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ অভিযান শুরু করবে টমাস ডুলির দল। কিন্তু ফিফার নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হবে ৯ নভেম্বর। ফলে বিদেশি ক্লাবে খেলা হামজা ও শমিতকে প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় দলের জন্য ছাড়তে বাধ্য নয় তাদের ক্লাব। এ কারণে উদ্বোধনী ম্যাচে দুই তারকাকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বাফুফেও আগেই জানিয়েছিল, বিদেশি ক্লাবে খেলা অধিকাংশ ফুটবলারকে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে পাওয়া কঠিন হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে রোনানকে পাওয়ার খবরটি বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি। বৃহস্পতিবার বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই তরুণ ফরোয়ার্ড সাফে খেলার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। কলেজ থেকে ছুটি পাওয়ায় তার অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও কেটেছে।
বাফুফের এই কর্মকর্তা জানান, ১ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত কলেজ থেকে ছুটি পেয়েছেন রোনান। এই সময়ের মধ্যেই তার বাংলাদেশে আসা ও টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। সাফের খেলোয়াড় নিবন্ধনের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর। এর আগেই রোনানের নাম জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বাফুফের।
তবে রোনানকে নিয়েও অপেক্ষা : রোনানকে পাওয়া নিশ্চিত হলেও ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তার মাঠে নামা এখনো চূড়ান্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বাংলাদেশে এসে দলের সঙ্গে অনুশীলনের জন্য খুব বেশি সময় পাবেন না তিনি। ফলে তার শারীরিক অবস্থা, ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠা এবং প্রস্তুতি বিবেচনা করেই একাদশে রাখার সিদ্ধান্ত নেবেন কোচ ডুলি। সবকিছু ঠিক থাকলে এবারের সাফেই বাংলাদেশের জাতীয় দলে অভিষেক হতে পারে এই তরুণ ফরোয়ার্ডের।
রোনানের ভাই ডেকলান সুলিভানকে অবশ্য এবার পাওয়া যাচ্ছে না। ডুলির ভাষ্য অনুযায়ী, রোনান সাফে খেলতে আসবেন বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। ডেকলানকে পরবর্তী কোনো প্রতিযোগিতায় দেখা যেতে পারে।
সাফের প্রস্তুতিতে ২৫ অক্টোবর অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টাও করছে বাফুফে। তবে নভেম্বরের শুরুতে রোনান দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের আগেই দলের সঙ্গে তার বোঝাপড়া তৈরি করাও কোচিং স্টাফের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
দ্বিতীয় ম্যাচে বাড়ছে আশা : ভুটানের পর ১১ নভেম্বর গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তত দিনে ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতি শুরু হয়ে যাওয়ায় হামজা ও শমিতকে পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে তাদের অংশগ্রহণ এখনো ক্লাবের ছাড়পত্র ও ভ্রমণসূচির ওপর নির্ভর করছে। প্রথম ম্যাচে তারা থাকতে না পারলে দলকে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।
২০০৩ সালের পর সাফ শিরোপা জেতেনি বাংলাদেশ। দীর্ঘ আট বছর পর ঘরের মাঠে ফিরছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই প্রতিযোগিতা। তাই নিজেদের দর্শকদের সামনে শিরোপাখরা কাটানোর স্বপ্ন দেখছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। কিন্তু শুরুতেই দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে নিয়ে অনিশ্চয়তা ডুলির পরিকল্পনায় চাপ তৈরি করেছে। সেই পরিস্থিতিতে রোনানকে পাওয়া আক্রমণভাগে নতুন বিকল্পের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন দেখার অপেক্ষা, প্রথম ম্যাচে কাদের নিয়ে একাদশ সাজান বাংলাদেশের কোচ।
