দশেরা মানেই শুধু রাবণ বধ নয়, ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্য। তেমনই কর্নাটকের মহীশূরের দশেরা, যা চারশো বছরেরও বেশি সময় ধরে পালিত হয়ে আসছে। রাজকীয় আড়ম্বর, সুসজ্জিত হাতির শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোকসজ্জায় এই সময় সেজে ওঠে গোটা শহর। ২০২৬ সালে মহীশূরের দশেরা পালিত হচ্ছে ১১ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত।
মহীশূরের দশেরার ইতিহাসের শিকড় রয়েছে বিজয়নগর সাম্রাজ্যের মহা নবমী উৎসবে। ১৬১০ সালে রাজা ওয়াদিয়ার প্রথম শ্রীরঙ্গপত্তনে এই উৎসবের সূচনা করেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে ওয়াদিয়ার রাজবংশের হাত ধরে এই উদ্যাপন মহীশূরের রাজকীয় পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। উনিশ ও বিশ শতকে উৎসবের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়। বর্তমানে কর্নাটকের রাজ্য উৎসব হিসেবে পরিচিত এই দশেরা।
মহীশূরের দশেরার অন্যতম বড় আকর্ষণ হল বিজয়া দশমীর দিন আয়োজিত জাম্বু সাভারি। এই শোভাযাত্রায় সুসজ্জিত হাতির পিঠে সোনার হাওদায় বহন করা হয় দেবী চামুণ্ডেশ্বরীর প্রতিমা। রাজপ্রাসাদ থেকে শোভাযাত্রা এগিয়ে যায় বান্নিমন্তপের দিকে। আগে এই রাজকীয় শোভাযাত্রায় মহারাজের উপস্থিতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সেখানে স্থান পেয়েছে দেবী চামুণ্ডেশ্বরীর প্রতিমা। ২০২৬ সালে ২১ অক্টোবর আয়োজিত হবে এই শোভাযাত্রা।
আলো ঝলমল রাজপ্রাসাদ, সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
দশেরার দিনগুলিতে মহীশূর রাজপ্রাসাদ হাজার হাজার আলোর সাজে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয় সংগীত, নৃত্য, নাটক এবং লোকশিল্পের অনুষ্ঠান। পাশাপাশি রয়েছে খাবারের মেলা, ফুলের প্রদর্শনী ও নানা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। উৎসবের শেষ পর্বে বান্নিমন্তপে অনুষ্ঠিত হয় বিখ্যাত মশাল শোভাযাত্রা বা ‘পাঞ্জিনা কাবায়াত্তু’। রাজকীয় ঐতিহ্য ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ মিলিয়ে মহীশূরের দশেরা আজও ভারতের অন্যতম আকর্ষণীয় উৎসব।
চার শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়েও মহীশূরের দশেরা তার ঐতিহ্য হারায়নি। দেবী চামুণ্ডেশ্বরীর আরাধনা, রাজবংশের ইতিহাস এবং শহরজুড়ে উৎসবের আবহ—সব মিলিয়ে এই দশেরা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, কর্নাটকের সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
