সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটEi Samay
Published on
:
2 min read
এই সময়: 'সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে' (এসআরএফটিআই) অচলাবস্থা অব্যাহত। পড়ুয়াদের ক্লাস বয়কট বুধবার ১৭ দিনে পড়ল। এর পাশাপাশি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া পড়ুয়াদের অবস্থান–বিক্ষোভ দ্বিতীয় দিনে পা দিয়েছে। এ দিন সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন উপাচার্য। সূত্রের খবর, সেখানে ক্যাম্পাসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি, বরং আসন্ন কলকাতা এবং গোয়া ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের শিডিউল নিয়েই মূলত কথা হয়েছে।
এরই মধ্যে ক্যাম্পাসে গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে বেশ কয়েক জন ছাত্রছাত্রীকে নতুন করে শো–কজ় নোটিস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। কেন গ্রাফিতি লেখার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা কর্তৃপক্ষের তরফে জানতে চাওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতি কাটাতে ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ দাবি করে বুধবার একটি চিঠি দিয়েছে এসআরএফটিআই স্টুডেন্ট ইউনিয়ন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর আরএসএসের শাখা সংগঠন এবিজিপি এবং ৪ অক্টোবর হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে দু'বার বহিরাগত হামলার অভিযোগ উঠেছিল। চিঠিতে পড়ুয়াদের দাবি, উপাচার্য এই হামলা প্রতিরোধে যথাযথ পদক্ষেপ করেননি এবং পরবর্তীতে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের এফটিআইআই-এর উদাহরণ টেনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। চিঠিতে পড়ুয়ারা মূলত সাত দফা দাবি পেশ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো বর্তমান উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার পদত্যাগ।
পাশাপাশি, ধর্মঘটের কারণে বাতিল হওয়া সমস্ত ব্যাচের ক্লাস আবার নির্ধারিত করার দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিবাদের জন্য বা গ্রাফিতি লেখার অভিযোগে জারি করা সমস্ত শো–কজ় ও শাস্তিমূলক নোটিস নিঃশর্ত প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়েছে। হামলার ঘটনার তদন্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং নতুন হস্টেল তৈরি না–হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ভিতরে স্টাফ কোয়ার্টারে অস্থায়ী বাসস্থানের সরকারি অনুমোদন দেওয়ার দাবিও চিঠিতে রয়েছে।
এ ছাড়া, আসনের ঘাটতি মেটাতে প্রয়োজনে অন্তত এক বছরের জন্য 'জি়রো ইয়ার' ঘোষণার দাবিও তুলেছেন পড়ুয়ারা। স্টুডেন্ট ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চেয়ারম্যান ও তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রক হস্তক্ষেপ করে এই দাবিগুলি না–মানলে পড়ুয়াদের ধর্মঘট ও অবস্থান বিক্ষোভ চলবে। যদিও পড়ুয়াদের দাবি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি উপাচার্য বা এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষ।
