মঙ্গলবার মঙ্গল হল শেয়ারবাজারে। টানা পতনের পর অবশেষে লম্বা লাফ দিল সেনসেক্স। ১১০০ পয়েন্ট বেড়ে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ বা বিএসই-র সূচক থামল ৭৩০৩৩.৭৮ পয়েন্টে। ১.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে ওই সূচকে। ভাল ফল করেছে নিফটিও। ৩৫৮.৬০ পয়েন্ট বেড়ে ২২ হাজার ৭০০ পয়েন্টে থেমেছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা এনএসই-র সূচক। গত সপ্তাহে টানা পতন ও এ সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনের শোচনীয় পতন ভুলে ফের ঘুরে দাঁড়াল সেনসেক্স ও নিফটি। বলা বাহুল্য, তাতে অবশেষে চওড়া হয়েছে লগ্নিকারীদের মুখের হাসি। শেষ কবে একধাক্কায় সূচক এতটা বেড়েছে তা মনে করতে পারছেন না অনেকেই।
১২ অক্টোবর বাজারের বেহাল দশার পর মঙ্গলবার হাসি ফিরল বিনিয়োগকারীদের মুখে। এ দিন দুপুরের দিকে ভারতীয় শেয়ারবাজারে তেজি ভাব আসে। সেনসেক্স ও নিফটি ৫০— দুই বেঞ্চমার্ক সূচক বেড়েছে দেড় শতাংশের বেশি। দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ (এলটিসিজি) কর এবং সিকিউরিটিজ় লেনদেন কর (এসটিটি) নিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের মন্তব্য, আয়কর সংস্থাগুলির শেয়ারে তেজি ভাব এবং অন্যান্য কয়েকটি কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে বলে মত বাজার বিশেষজ্ঞদের। ভারতীয় শেয়ারবাজারে ফিরেছে প্রায় চার লক্ষ কোটি টাকা। দু’টি বেঞ্চমার্কে সম্মিলিত বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ লক্ষ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন:
নিফটি ৫০ সূচকে সবচেয়ে বেশি লাভের মুখ দেখেছে এইচসিএল টেকনোলজ়িস, টিসিএস, শ্রীরাম ফাইন্যান্স, টেক মাহিন্দ্রা এবং ইনফোসিসের শেয়ার। অন্য দিকে, ইটার্নাল, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক, ম্যাক্স হেল্থকেয়ার, পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন এবং মারুতি সুজ়ুকির শেয়ারে পতন দেখা গিয়েছে।
শক্তি উৎপাদনকারী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী সংস্থা ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) সূচক প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে সবচেয়ে বেশি লাভের মুখ দেখেছে। এ ছাড়া ধাতু, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থা মতো খাতের প্রতিটি সূচকই প্রায় ১ শতাংশ করে বেড়েছে। বাজারের এই ইতিবাচক প্রবণতার মধ্যে নিফটি মিডক্যাপ সূচক ০.৭ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ সূচক ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ (এলটিসিজি) কর তুলে দেওয়ার দাবির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এই ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে। পাশাপাশি, সিকিউরিটিজ় লেনদেন কর (এসটিটি) নিয়েও চলা বিতর্ক নিয়ে অবস্থান জানিয়েছেন নির্মলা। যদিও কর ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তনের ঘোষণা করেননি অর্থমন্ত্রী, তবুও তাঁর এই মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন পুঁজি বিশেষজ্ঞদের অনেকেই। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রির চাপের মধ্যেও বাজারের ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মত তাঁদের।
