চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে ৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২২ হাজার ৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩২ হাজার ৩২ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১৯ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। সে হিসাবে এবার রাজস্ব আদায় বেড়েছে ২ হাজার ১৮১ কোটি টাকা। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।
রাজস্ব আদায়ের এই ঘাটতির মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি কমে যাওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে। ওই মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমস দিয়ে পণ্য আমদানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ৮৪ লাখ টনে নেমেছে। একই সময়ে আমদানি করা পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা।
কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় আদায় বেড়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। তবে মাসিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ২৭ দশমিক ৯০ শতাংশ।
শুল্ক স্তরভেদে রাজস্ব আদায়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ২৫ শতাংশ শুল্ক স্তর থেকে রাজস্ব আদায় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩৩ কোটি টাকায় নেমেছে। অন্যদিকে ৩ শতাংশ শুল্ক স্তর থেকে আদায় বেড়েছে ২৪১ শতাংশ।
এ ছাড়া ১০ শতাংশ শুল্ক স্তর থেকে ১ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা, ৫ শতাংশ স্তর থেকে ৮৭৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ১৫ শতাংশ স্তর থেকে ৫৯০ কোটি টাকা, শূন্য শতাংশ স্তর থেকে ৮০৪ কোটি টাকা এবং ১ শতাংশ স্তর থেকে ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
অন্যদিকে, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সামগ্রিক আমদানির পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে প্রায় আড়াই কোটি টনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আমদানি করা পণ্যের মোট শুল্কায়নযোগ্য মূল্য বেড়েছে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এই মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮০১ কোটি টাকা।
বিশেষ করে ৩ শতাংশ শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি তিন গুণের বেশি বেড়েছে। এসব পণ্যের শুল্কায়নযোগ্য মূল্যও প্রায় চার গুণ বেড়ে ৬ হাজার ৬৭২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
আমদানির পরিমাণ ও শুল্কায়নযোগ্য মূল্য বাড়লেও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার বিষয়টি কাস্টমসের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমদানি করা পণ্যের পরিমাণের পাশাপাশি পণ্যের ধরন ও শুল্কহারের পরিবর্তনও রাজস্ব আদায়ে প্রভাব ফেলছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ আল আমীন বলেন, রাজস্ব আদায় মূলত আমদানি করা পণ্যের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। প্রথম প্রান্তিকে বেশি শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি বাড়ায় রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে আমদানির পরিমাণ কমলেও উচ্চমূল্যের পণ্য আমদানির কারণে সামগ্রিক রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী মাসগুলোতে আমদানি-বাণিজ্য বাড়লে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
