১৯৫২ সালে ফরিদগঞ্জের হাজী আব্দুল আউয়াল ফরিদগঞ্জ বাজারে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেন। সেই থেকে শুরু এর যাত্রা।
গুণগত মান, স্বাদ আর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে চাঁদপুর থেকে সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে ‘হাজী আউয়াল সুইটস’-এর মিষ্টির পরিচিতি। ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি মিষ্টির স্বাদে জয় করেছে ক্রেতাদের মন। প্রতিদিন কেবল স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মিষ্টিপ্রেমীরাও ভিড় জমান এখানে। দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষের ভালোবাসায় দোকানটিতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেনাকাটার ব্যস্ততা লেগে থাকে।
১৯৫২ সালে ফরিদগঞ্জের হাজী আব্দুল আউয়াল ফরিদগঞ্জ বাজারে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেন। সেই থেকে শুরু এর যাত্রা। সময়ের পরিক্রমায় প্রতিষ্ঠানটি ৭৪ বছর পার করেছে। দীর্ঘ এ পথচলায় এটি চাঁদপুর অঞ্চলের মিষ্টির ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে পারিবারিক পরিচালনায় সুনামের সঙ্গে ব্যবসাটি এগিয়ে চলেছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দেখা যায় সবসময়ই ক্রেতাদের আনাগোনা। ফরিদগঞ্জ ও আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছে। কেউ পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য মিষ্টি নিচ্ছেন। কেউবা প্রিয়জনের জন্য কিনে নিচ্ছেন রসমালাই কিংবা গরম রসগোল্লা। দোকানজুড়ে সারা দিন মিষ্টি বিক্রির ধুম লেগে থাকে।
ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি তৈরিতে এখন আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কিছু মিষ্টি যন্ত্রের সাহায্যে বানানো হয়। এতে মিষ্টির আকার, ওজন ও মানে সঠিক সামঞ্জস্য থাকে। তবে প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতেই সবচেয়ে বেশি জোর দেয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, এটি কেবল একটি সাধারণ দোকান নয়, বরং ফরিদগঞ্জের এক গৌরবময় ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষ এখান থেকে মিষ্টি কিনছে। দূরে থাকা চাঁদপুরের মানুষ এলাকায় এলে এ দোকানে একবার হলেও ঢু মারেন বলে দাবি তাদের।
চাঁদপুর শহর থেকে মিষ্টি কিনতে আসা লতিফ খান জানান, মিষ্টির প্রয়োজন হলে তিনি সবসময় হাজী আউয়াল সুইটসকেই বেছে নেন। এখানকার মিষ্টির স্বাদ ও পরিচিতি সত্যিই অনন্য। প্রতিটি মিষ্টির স্বাদ আলাদা, মানও ভালো।
প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিচালক মো. আব্দুল আখের জানান, সৃষ্টিকর্তার রহমত ও মানুষের ভালোবাসা তাদের দীর্ঘ চলার পথের শক্তি। তারা মিষ্টি তৈরিতে সর্বোচ্চ মানের খাঁটি দুধ ও সেরা উপাদান ব্যবহার করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ এখান থেকে মিষ্টি কিনে নিয়ে যায়। অনেকে দূরদূরান্তে থাকা স্বজনদের জন্য উপহার হিসেবেও এ মিষ্টি পাঠান।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে এখানে রসগোল্লা, মালাইকারি, রসমালাই, ল্যাংচা, বালুশাই, কালো মিষ্টি, সাদা মিষ্টি ও নিমকিসহ নানা পদ তৈরি হয়। প্রতিদিন কয়েকশ কেজি মিষ্টি উৎপাদন ও বিক্রি হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। পারিবারিক আন্তরিকতা, কর্মীদের পরিশ্রম ও স্থানীয়দের ভালোবাসায় প্রতিষ্ঠানটি আজ সারা দেশে সুপরিচিত। প্রতিযোগিতার যুগেও স্বাদ ও মান ধরে রাখার মাধ্যমে হাজী আউয়াল সুইটস তাদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
