রাতের আঁধারে ঝোপের ভেতর থেকে ভেসে আসছিল গোঙানির শব্দ। পাশের সড়ক দিয়ে চলাচল করা পথচারীরা তা শুনতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর-৯৯৯-এ ফোন দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ঝোপে তল্লাশি চালায় পুলিশ। দেখা যায়, হাত-পা রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ঝোপের ভেতরে পড়ে রয়েছেন এক যুবক। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার রাতে এমনই ঘটনা ঘটেছে ফেনী সদর উপজেলার কালিদহ ইউনিয়নের হাফেজিয়া ভাঙার তাকিয়া এলাকায়। উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম মো. আবদুল্লাহ আল আমিন (৩০)। তিনি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের উত্তর মঙ্গলকান্দি গ্রামের লোকুর দোকানসংলগ্ন আলী আজ্জম মৃধা বাড়ির বাসিন্দা।
জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সোনাগাজী উপজেলা শাখার সদস্যসচিব পদে রয়েছেন উদ্ধার হওয়া যুবক মো. আবদুল্লাহ আল আমিন। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত বুধবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন আল আমিন। তাঁর নিখোঁজের বিষয়ে গত শুক্রবার দুপুরে সোনাগাজী থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়।
সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার বিকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনাগাজী বাজারে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন আল আমিন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। ওই দিন রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে দুটি মুঠোফোন নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়।
আল আমিনের চাচা আবদুল হক নোমান বলেন, আল আমিনকে উদ্ধারের বিষয়টি শুক্রবার মধ্যরাতে পুলিশ তাঁদের জানায়। আল আমিনকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। সুস্থ হওয়ার পর আল আমিনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।
সোনাগাজী উপজেলা তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হক নোমান বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আল আমিনের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি মামলায় তাঁর আট বছরের কারাদণ্ড হয়’। তিনি আরও বলেন, ‘আল আমিনকে কারা তুলে নিয়ে গেছে, কারা তাঁকে ঝোপে ফেলে রাখল তা তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আটকের দাবি জানাই।’
নিখোঁজ আল আমিনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেনীর সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) সৈয়দ মুমিদ রায়হান। তিনি বলেন, ঘটনার তথ্য অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।