যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারে নেমে ইরান যুদ্ধ ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
শনিবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক সমাবেশে ওবামা বলেন, ‘এই প্রশাসনের কিছু বোকামি অন্তত নিয়ন্ত্রণে আনার এটাই আমাদের শেষ সেরা সুযোগ।’
অন্যদিকে, জর্জিয়ায় এক সমাবেশে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের অভিবাসন ও শুল্কনীতির পক্ষে বক্তব্য দেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা এখন স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছে।’
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে। এর ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের বাকি সময়ে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে কতটা সুবিধা পাবেন। এরই মধ্যে আগাম ভোট শুরু হয়েছে। শনিবার ফ্লোরিডায় স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন ট্রাম্প।
শনিবার ওহাইও ও মিশিগানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সমালোচনা করেন ওবামা। একপর্যায়ে হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েও প্রেসিডেন্টকে বিদ্রূপ করেন তিনি।
ক্লিভল্যান্ডে সমাবেশে ওবামা বলেন, ‘দুই বছর ধরে এমন বিশৃঙ্খলা, নিষ্ঠুরতা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা দেখেছি, আধুনিক যুগে যার তুলনা নেই। এখন আপনাদের বলার সুযোগ এসেছে—যথেষ্ট হয়েছে।’
করোনা মহামারির পর অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির কারণে ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেসব ভোটার ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তাঁদের উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করেন ওবামা। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্পকেই দায়ী করেন তিনি।
ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ওবামা বলেন, ‘আপনি যদি মনে করে থাকেন, ওই ব্যক্তি আসার আগে সবকিছুর দাম বেশি ছিল, তাহলে এখন সবকিছুর দাম আরও বেশি।’
অন্যদিকে, ট্রাম্প স্বীকার করেন, তেলের দাম সাময়িকভাবে বেশি রয়েছে। তবে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ ক্রমেই আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আর জ্বালানি পাম্পে দামও কমে আসবে।’
ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির মূল্য কমানোর চাপের মুখে রয়েছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।
জর্জিয়ার পেরিতে সমাবেশে অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, ‘শুল্কের মাধ্যমে আমরা বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছি।’ এ ছাড়া, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণ করে ট্রাম্প বলেন, তাঁরা জনগণের সম্পদ লুট করবেন এবং দেশের সীমান্ত ধ্বংস করে দেবেন। লিবিয়া, ইয়েমেন, হাইতি ও সোমালিয়া থেকে অভিবাসী নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও করেন তিনি। দেশগুলোকে ‘সন্ত্রাসে পরিপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।
কয়েকজন সিনেটরের সঙ্গে আগের এক বৈঠকের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, কেন আমাদের সব সময় এমন জঘন্য দেশ থেকে মানুষ নিতে হবে? আমরা নরওয়ে, সুইডেন কিংবা ডেনমার্কের মতো দেশ থেকে মানুষ নিতে পারি না কেন?’
ওহাইওতে ওবামা ইরান যুদ্ধ নিয়েও ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরান কার্যত ‘ভেটো ক্ষমতা’ পেয়ে গেছে।
দিনের শুরুতে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি খুব কার্যকরভাবে কাজটি করেছি। হয়তো আমাকে এটি শেষ করতে হবে, অথবা তারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাবে। তবে আমি নিশ্চিত নই। যেভাবেই হোক, জয় আমাদেরই।’
রাশিয়ার দখল করা একটি শহরে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ঘোষণার পর মেলানিয়া ট্রাম্প ইউক্রেন সফর করবেন কি না, সে প্রশ্নও করা হয় ট্রাম্পকে। জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখা যাক।’
‘সবখানে এত সোনা কেন?’
শনিবার বিকেলের সমাবেশে হোয়াইট হাউসের সংস্কার ও সাজসজ্জা নিয়েও ট্রাম্পকে বিদ্রূপ করেন ওবামা।
তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘সবখানে এত সোনা কেন? তাঁর সাজানো হোয়াইট হাউস দেখে মনে হচ্ছে, সাদ্দাম হোসেন যেন সেখানে চিজকেক ফ্যাক্টরির একটি শাখা খুলেছেন।’
ওহাইওতে ওবামার সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউনের প্রতি সমর্থন জানানো। তিনি বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর জন হাসটেডকে হারিয়ে আবার সিনেটে ফিরতে লড়ছেন। একই সমাবেশে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর বিরুদ্ধে লড়াই করা অ্যামি অ্যাকটনের প্রতিও সমর্থন জানান ওবামা।
গত সপ্তাহে অ্যাকটনের বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করা মাকে নিয়ে রামাস্বামীর প্রচার বিজ্ঞাপন প্রকাশের সমালোচনা করেন ওবামা। বিজ্ঞাপনটিতে অ্যাকটনের মা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যা দেন। তবে অ্যাকটন যখন শিশু ছিলেন, তখন তাঁর মাকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল—বিজ্ঞাপনটিতে সেই তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
ওবামা বলেন, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমরা দেখেছি, আলোচনায় আসার জন্য এমন কোনো সীমা নেই, যা তিনি অতিক্রম করবেন না। সর্বনিম্ন পর্যায়েও নামতে তাঁর বাধে না। তাঁর সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনটির কথাই ভাবুন।’
ওবামার আগে সমাবেশে বক্তব্য দেন অ্যাকটন। তিনি অভিযোগ করেন, নিজের দুর্বল হয়ে পড়া প্রচারাভিযান বাঁচাতে রামাস্বামী তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/
