সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা বন্দরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিশ্বাস সুপার মার্কেটের তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গোডাউন, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মূল্যবান মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
তোষকের দোকান থেকে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের অন্যান্য দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেডিং ব্যবসায়ী মো. জহুরুল ইসলাম। তাঁর গোডাউনের তুলা ও লেপ-তোষক পুড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও মিলন হোসেনের ফ্রিজের গোডাউনে থাকা প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল এবং শাহাদতের গোডাউন, মেশিন ও একটি মোটরসাইকেল পুড়ে আরও প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। সর্বমোট ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ঘটনার বিষয়ে রায়গঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে।
এদিকে সিরাজগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ভূঞাগাঁতী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. নেজামুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ওয়্যারিংয়ে নিম্নমানের তার ব্যবহারের ফলে শর্টসার্কিট হয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে দোকান বন্ধ করে সবাই বাসায় ঘুমানোর পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত সরকারি সহায়তার পাশাপাশি এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বাজারের বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
