আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্বামীর মৃত্যু হয়েছে সাপের কামড়ে, এমনটাই বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেছিলেন স্ত্রী। পাশে রাখা হয়েছিল একটি জীবন্ত সাপও, যাতে সন্দেহের কোনও অবকাশ না থাকে। কিন্তু খুনের ছক এমনই নিখুঁতভাবে সাজাতে গিয়ে একটি বড় ভুল করে বসেন অভিযুক্তরা। যে সাপকে খুনের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিরই বিষদাঁত তুলে নেওয়া হয়েছিল। আর সেই সূত্র ধরেই সামনে আসে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। উত্তরপ্রদেশের মিরাটের এই ঘটনায় স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ড দিল আদালত।
মৃতের নাম অমিত কাশ্যপ। স্ত্রী রবিতা ও তাঁর প্রেমিক অমরদীপের বিরুদ্ধে অমিতকে খুনের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে উঠে আসে, দু’জনে মিলে অমিতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে তাঁর দেহের পাশে একটি সাপ রেখে ঘটনাটিকে সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ময়নাতদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আসতেই সন্দেহ ঘনীভূত হয়। পুলিশের তদন্তে আরও স্পষ্ট হয়ে যায়, গোটা ঘটনাটিই ছিল খুনের পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা।
২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল অমিতের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। পেশায় তিনি শ্রমিক ছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করার পর সাপের কামড়ের গল্প সাজানো হয়েছিল, যাতে স্বাভাবিক মৃত্যুর ধারণা তৈরি হয়। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধের কথা উঠে আসায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে সাপটির বিষদাঁত তুলে নেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে।
শুক্রবার এই মামলায় রবিতা ও অমরদীপকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে মিরাটের আদালত। রায় ঘোষণার সময় বিচারক করবা চৌথের প্রসঙ্গও টানেন। স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায় যে স্ত্রী উপবাস করেন, তাঁর বিরুদ্ধেই স্বামীকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়াকে ক্ষমার অযোগ্য বলে মন্তব্য করেন বিচারক। অমিত ও রবিতার তিনটি সন্তান রয়েছে। রায় ঘোষণার সময় বিচারক জানান, এবার শিশুদের দেখভালের দায়িত্ব নেবেন জেলাশাসক।
মিরাটে এক সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার কোনও দম্পতিকে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল। এর আগে সৌরভ রাজপুত খুনের মামলায় তাঁর স্ত্রী মুসকান রাস্তোগী ও প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় স্থানীয় আদালত। সেই ঘটনায় সৌরভকে খুনের পর তাঁর দেহ টুকরো করে একটি নীল রঙের শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত ড্রামের মধ্যে সিমেন্ট ও বালি দিয়ে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষীদের বয়ানের ভিত্তিতে আদালত ওই মামলায় সাজা ঘোষণা করে।
