এর অর্থ এই নয় যে বিড়াল পোষার সংখ্যা হঠাৎ বেড়েছে। বরং বিষয়টি এভাবে উপস্থাপন করা যায় যে, বর্তমানে কুকুর পোষা পরিবারের সংখ্যা কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুটপাত, পার্ক কিংবা সমুদ্রসৈকতে কুকুর নিয়ে মানুষের হাঁটাহাঁটির দৃশ্য খুবই পরিচিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র এখন বদলাচ্ছে। পোষা প্রাণী হিসেবে কুকুরের প্রতি মানুষের আগ্রহ বর্তমানে কমছে, অন্যদিকে বিড়াল কিন্তু ঠিকই নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে। এর পেছনে রয়েছে মানুষের বদলে যাওয়া জীবনযাপন, বাড়তি ব্যয় ও অর্থনৈতিক চাপ।
পোষা প্রাণী নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান প্যাকেজড ফ্যাক্টসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরের কম বয়সী বিড়াল থাকা পরিবারের সংখ্যা কুকুরছানা থাকা পরিবারের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৪ সালে প্রতি একটি বিড়ালছানা থাকা পরিবারের বিপরীতে কুকুরছানা থাকা পরিবারের সংখ্যা ছিল ১ দশমিক ৮। ২০২৫ সালে অনুপাতটি সমান হয়। কিন্তু চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৯৪-এ।
তবে এর অর্থ এই নয় যে বিড়াল পোষার সংখ্যা হঠাৎ বেড়েছে। বরং বিষয়টি এভাবে উপস্থাপন করা যায় যে, বর্তমানে কুকুর পোষা পরিবারের সংখ্যা কমেছে।
এদিকে ২০১৯ সালের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে কুকুর থাকা পরিবারের সংখ্যা কমেছে ৫ শতাংশ। আর বিড়াল পোষা পরিবারের সংখ্যা মোটামুটি স্থিতিশীল। এখনো প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ পরিবারে কুকুর রয়েছে, আর বিড়াল আছে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ পরিবারে।
কুকুরের তুলনায় বাসাবাড়িতে বিড়াল পোষা সহজ। ছোট বাসায় বিড়াল মানিয়ে নিতে পারে, একা থাকতেও অভ্যস্ত। বিপরীতে কুকুরকে নিয়মিত বাইরে নিয়ে যাওয়া, পরিচর্যা করা এবং মালিকের অনুপস্থিতিতে তার দেখাশোনার ব্যবস্থা করতে হয়। ব্যস্ত জীবনে অনেকের কাছেই এসব বাড়তি দায়িত্ব হয়ে উঠছে।
খরচের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ। প্যাকেজড ফ্যাক্টসের হিসাবে, একটি কুকুরের পেছনে বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলার ব্যয় হয়। বিড়ালের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৭৫০ ডলার। বাড়ির উচ্চমূল্য, বন্ধকী ঋণের বেশি সুদ এবং প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির ধীরগতিও কুকুর পোষার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। বাড়ির মালিকদের কুকুর পোষার সম্ভাবনা ভাড়াটেদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
জনসংখ্যার পরিবর্তনও এ প্রবণতায় ভূমিকা রাখছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনবিষয়ক যৌথ গবেষণা কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধির বড় অংশ আসবে বয়স্ক মানুষ ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে, যাদের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে পোষা প্রাণী পোষার হার তুলনামূলক কম। মহামারীর পর ছোট পরিবার, অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস ও বেশি ভ্রমণের প্রবণতাও বেড়েছে।
বদলে যাওয়া বাজারের সঙ্গে অবশ্য তাল মেলাতে পারেনি পোষা প্রাণীর ব্যবসা। ২০২৬ সালের এক জরিপে প্রায় অর্ধেক বিড়ালমালিক জানিয়েছেন, পণ্য উৎপাদক ও বিক্রেতারা বিড়ালের প্রয়োজনকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন না। কুকুরের খাবার, খেলনা, পোশাক, প্রশিক্ষণ, পার্ক, হোটেল ও ভ্রমণসেবার যত আয়োজন, বিড়ালের ক্ষেত্রে তা অনেক কম।
এদিকে পোষা প্রাণীর বাজারের মোট বিক্রির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসে কুকুরকেন্দ্রিক পণ্য ও সেবা থেকে। কিন্তু ক্রেতারা এখন কম দামের পণ্য বেছে নিচ্ছেন। কেউ কেউ ব্যয় সামলাতে না পেরে পোষা প্রাণী রাখার সিদ্ধান্ত থেকেও সরে যাচ্ছেন।
তবে মানুষের হঠাৎ এমন কুকুর ছেড়ে বিড়ালমুখী হওয়ার মানে কিন্তু বিড়াল দিয়ে কুকুরকে প্রতিস্থাপন করা নয়। এর মূল কারণ, মার্কিনদের লাইফস্টাইলও এখন বিড়ালের মতো স্বাধীন ও একাকী হয়ে পড়েছে। কয়েক বছর পর ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী যদি হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরতে আসে, তখন ফুটপাত আর পার্কে কুকুরের পরিবর্তে দেখতে পাবে ঘরের জানালায় বসে মিষ্টি রোদে ঝিমোচ্ছে সব অলস বিড়াল।
—দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে অনূদিত ও পরিমার্জিত
