অনলাইন ডেস্ক
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল হক নুর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে জয়ী হয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচনা করেছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা ৩৪ বছর বয়সী এই তরুণ নেতার রাজনৈতিক পথচলায় নানা বাধা, হামলা ও মামলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নুরুল হকের। তাঁর বাবা ইদ্রিস হাওলাদার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য। ছোটবেলায় মাকে হারানো নুর তিন ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে চতুর্থ। চরবিশ্বাস জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা শেষে তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে রাজধানীর উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইংরেজি বিভাগে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তিনি দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন।
২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন নুরুল হক। পরে অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ গঠনে ভূমিকা রাখেন এবং পরবর্তীতে দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও হয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নির্বাচনে জয় লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়াকে তাঁর সমর্থকেরা দীর্ঘ সংগ্রামের ফল হিসেবে দেখছেন। পরিবার, শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে তাঁর এই উত্থান স্থানীয় জনপদে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে নুরুল হক বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী মারিয়া আক্তার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নুরের সাফল্যে তারা গর্বিত।
