Published on
:
2 min read
সত্যজিৎ রায়ের ‘আগন্তুক’-এর সেই আদিবাসী নাচের কথা মনে আছে? মাদল আর ধামসার তালে, শান্ত প্রকৃতির কোলে যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছিল বাংলার লোকসংস্কৃতি। পুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ডের সীমানায় অবস্থিত ডুয়ারসিনি অনেকটা তেমনই এক জায়গা। ঠিক যেন আগন্তুকের সেট। চারপাশে ঢেউখেলানো পাহাড়, দূরে দলমা পাহাড়, শাল-সেগুন-পিয়ালের ঘন জঙ্গল আর পলাশফুল। পাথুরে সাতগুড়ুম নদীর বয়ে চলা এই প্রাকৃতিক পরিবেশে শহরের ব্যস্ততা ভুলে কয়েকটা দিন কাটিয়ে আসতেই পারেন। যাঁরা ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলি প্রকৃতি, গ্রামবাংলার জীবনযাত্রা এবং আদিবাসী সংস্কৃতির কাছাকাছি থাকতে চান, তাঁদের জন্য ডুয়ারসিনি হতে পারে পুজোর ছুটির এক অন্যরকম ঠিকানা।
কেন যাবেন ডুয়ারসিনি?
ডুয়ারসিনির প্রধান আকর্ষণ এর শান্ত পরিবেশ এবং প্রকৃতির বৈচিত্র। এখানে বড় শহরের মতো কোলাহল বা জমজমাট পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় নেই। পাহাড়, জঙ্গল, লাল মাটির পথ এবং আদিবাসী গ্রাম মিলিয়ে জায়গাটি সপ্তাহান্তে নিরিবিলি সময় কাটানোর আদর্শ গন্তব্য। বিশেষ করে শীতের শুরুতে কিংবা পলাশ ফোটার মরশুমে প্রকৃতির রূপ উপভোগ করতে পারবেন। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি ডুয়ারসিনি যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়।
কী দেখবেন?
ডুয়ারসিনি ফরেস্ট এক্সপ্লোর করুন। শাল, সেগুন, পিয়াল ও পলাশে ঘেরা জঙ্গলের সবুজ সৌন্দর্য উপভোগ করুন। ভাগ্য ভালো থাকলে নানা প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণীর দেখা মিলতে পারে।
হাতে সময় থাকলে ঘাটশিলা অঞ্চলের বুরুডি জলাধার ঘুরে দেখতে পারেন। পাহাড়ের কোলে জলাশয়ের শান্ত পরিবেশ ও প্রাকৃতিক দৃশ্য মন ভালো করে দেবে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় বড় মায়াবী লাগে।
জঙ্গলের পথে প্রকৃতির ছবি তুলুন এবং পাখির ডাক শুনতে শুনতে সময় কাটান। স্থানীয় সাঁওতাল, মুন্ডা, শবর ও খেড়িয়া জনগোষ্ঠীর জীবন কী ভাবে কাটে তা এক্সপ্লোর করতে পারেন।
কী ভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে ডুয়ারসিনির দূরত্ব সড়কপথে আনুমানিক ২৬০–২৭০ কিলোমিটার, রুট অনুযায়ী দূরত্ব বদলাতে পারে। গাড়িতে বান্দোয়ান হয়ে যাওয়া যায়। ট্রেনে গেলে হাওড়া থেকে ঘাটশিলা নেমে গাড়ি ভাড়া করতে পারেন; ঘাটশিলা থেকে ডুয়ারসিনি প্রায় ২৫ কিলোমিটার।
কোথায় থাকবেন?
ডুয়ারসিনিতে বন দপ্তরের কটেজ রয়েছে। Duarsini WBSFDA Cottages। তার জন্য সরকারি ওয়েবসাইটে বুকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া বেশ কিছু বেসরকারি ইকো ট্যুরিজম রিসর্ট রয়েছে, চাইলে সেখানেও থাকতে পারেন।
FAQ
ডুয়ারসিনি কোথায় অবস্থিত?
ডুয়ারসিনি পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার বান্দোয়ান অঞ্চলে, ঝাড়খণ্ডের সীমানার কাছে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক পর্যটনস্থল।
ডুয়ারসিনি ঘুরতে যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি ডুয়ারসিনি ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক সময়। বসন্তে পলাশ ফুটলে চারপাশের জঙ্গলও রঙিন হয়ে ওঠে।
ডুয়ারসিনিতে কী কী দেখার জায়গা রয়েছে?
ডুয়ারসিনি ফরেস্ট, পাহাড়-জঙ্গল, স্থানীয় আদিবাসী গ্রাম এবং কাছাকাছি ঘাটশিলা অঞ্চলের বুরুডি ড্যাম ঘুরে দেখতে পারেন।
কলকাতা থেকে ডুয়ারসিনি কী ভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে গাড়িতে বান্দোয়ান হয়ে ডুয়ারসিনি যাওয়া যায়। ট্রেনে ঘাটশিলা পৌঁছে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করেও যেতে পারেন। যাত্রার আগে দূরত্ব ও পরিবহণের ব্যবস্থা যাচাই করে নিন।
ডুয়ারসিনিতে কোথায় থাকা যায়?
ডুয়ারসিনি WBSFDA Cottages-এ থাকার খোঁজ নিতে পারেন। এ ছাড়া আশপাশের বেসরকারি ইকো-ট্যুরিজম রিসর্টগুলির প্রাপ্যতা ও বুকিংয়ের শর্ত যাচাই করে আগাম ব্যবস্থা করুন।
