নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৪ জনের পরিবারের জন্য মোট এক লাখ ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের নিকটবর্তী সরকারপাড়া এলাকায় সংঘটিত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নিহতদের পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নাটোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং সরকারের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে।
দুর্ঘটনার পরপরই সরকারের উচ্চপর্যায়ের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। এ বিষয়ে নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু জানান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব তাকে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে নাটোরের এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রতিটি পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের প্রয়োজন সাপেক্ষে সরকার তাদের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার ভোরের ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নাটোর সদর হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
এদিকে, এই মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দুর্ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। আকস্মিক এই প্রাণহানিতে গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
