কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা শনাক্ত করতে সহায়তা করলেও একই সঙ্গে সেগুলোর অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি ওয়েবের বড় অংশে ব্যবহৃত পিএইচপি সফটওয়্যারের গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। এআই ব্যবহার করে এমন দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলার আশঙ্কাও বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং এআই প্লাটফর্ম হাগিং ফেসে বটের হামলার ঘটনাও এ ঝুঁকির প্রমাণ।
যুক্তরাজ্য এআই নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা ও গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় উদ্যোগ নিলেও কোনো দেশ এককভাবে বৈশ্বিক এ হুমকি মোকাবেলা করতে পারবে না। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআইয়ের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকে কৌশলগত সম্পদ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এ প্রতিযোগিতায় সতর্কতার আহ্বান পরাজয়ের শামিল। আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা এ অবস্থানকে আরো জটিল করে তুলেছে।
এআইয়ের অপব্যবহার কিংবা অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ভয়াবহ বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক ধাক্কা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যুক্তরাজ্যের জি২০ সভাপতিত্বের সময় এআই নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেয়ার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের অনাগ্রহ সত্ত্বেও বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব কোনো দেশকে সাইবার বিপর্যয় থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না; নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
[দ্য গার্ডিয়ান সম্পাদকীয়তে]
