সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড হওয়া দুই বাংলাদেশির 'অপরাধের' কথা আগে জানলেও কেন পদক্ষেপ নেয়নি ঢাকা?
কম ডেটা ব্যবহার করতে শুধু টেক্সট পড়ুন

ছবির উৎস, AFP
Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দুই সপ্তাহ আগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়, সে ব্যাপারে জানালেও নির্ধারিত সাজার কথা সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ মিশনকে জানায়নি।
জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে এক চিঠিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ কথা জানিয়েছে। এই চিঠি গত ১৮ই অক্টোবর ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলখানায় নানা অভিযোগে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল।
সেই অনুরোধের পর গত ৩০শে সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ যে তালিকা দিয়েছে, তাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম, ঠিকানা, পাসপোর্ট নম্বর, ইকামা নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জেদ্দা কনস্যুলেটকে যে তালিকা দিয়েছে, তাতে এই দুই বাংলাদেশির অপরাধ ও মামলা সম্পর্কেও জানানো হয়েছে।
তালিকাটি বিবিসি বাংলার হাতে এসেছে। ওই তালিকায় তাদের বিরুদ্ধে 'সাইবার অপরাধ ও জেনা' করার অভিযোগের কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
যদিও "শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না" বলে মন্ত্রণালয়কে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশি কনস্যুলেট জেনারেল।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী জেদ্দায় বাংলাদেশি কনস্যুলেট কার্যালয়ের সূত্রগুলো বলছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সবশেষ প্রায় আড়াই হাজার বন্দির তালিকা পাওয়া গেছে।
এই তালিকায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুইজনের নাম ছিল। সাজার কথা উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি তাদের কাছে স্পষ্ট ছিল না।
অর্থাৎ, সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তালিকায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অপরাধের কথা উল্লেখ থাকলেও সেটির শাস্তি যে মৃত্যুদণ্ড, সেটি বাংলাদেশের কনস্যুলেটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুধাবন করতে পারেননি বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বলছে।
এদিকে, কূটনীতিকরা বলছেন, যেহেতু দুই সপ্তাহ আগে বাংলাদেশি কনস্যুলেট জেনারেল তাদের অপরাধ 'জেনা' সম্পর্কে জেনেছেন, তখনই তাদের এ বিষয়ে তৎপর হওয়া উচিত ছিল। কেননা ইসলামিক আইন অনুসরণকারী দেশে জেনা অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ইসলামিক আইনে যেসব দেশ চলে, সেখানে সাধারণত জেনা হলে তো মৃত্যুদণ্ড দেয়, এটা জানা কথা। এটা তো ওদের জানা থাকার কথা, বোঝার কথা। তারপরে সঙ্গে সঙ্গে রিঅ্যাকশন নেওয়ার কথা।"

দুই বাংলাদেশির যে অপরাধ
সৌদি আরবের গণমাধ্যমে ১৪ই অক্টোবর প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের তা'জির হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জেদ্দা থেকে বাংলাদেশের কনসুলেট জেনারেলের পাঠানো চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে 'অনৈতিক কাজে' লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জেদ্দা কনসুলেট জেনারেলের কাউন্সেলের চিঠি রিয়াদের বাংলাদেশি দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠানো চিঠিতে জেদ্দা কনস্যুলেট দুই বাংলাদেশি যে অপরাধ ও মামলায় আটক হয়, সেটির কথা উল্লেখ করেছে।
এতে তাদের নাম-পরিচয়সহ সব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সৌদি আরবের একটি কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত ৩০শে সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তালিকায় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সাইবার (তথ্যপ্রযুক্তি) অপরাধের অভিযোগে ২০২৩ সালের পহেলা অগাস্ট বা ১৪৪৫ হিজরির ১৪ই মহররমে পুরুষ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে।
জেদ্দা সংশোধনাগারে তার অবস্থানের কথাও সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নারী বাংলাদেশি নাগরিককে 'ব্যভিচারে লিপ্ত' হওয়ার অভিযোগে ২০২৩ সালের দোসরা অগাস্ট বা ১৪৪৫ হিজরির ১৫ই মহররম তারিখে আটক করা হয়।
ওই নারী জেদ্দা মহিলা কারাগারে ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে 'জেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত' হওয়ার অপরাধে রায় হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে; যেটিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পাঠানো জেদ্দা কনস্যুলেটের চিঠিতে জানানো হয়েছে।
জেদ্দায় নিযুক্ত বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেলের চিঠিতে এ-ও দাবি করা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলখানায় বিভিন্ন অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের যে তালিকা দিয়েছে, তাতে রায় ঘোষিত কয়েদিদের সাজার সংক্ষিপ্ত বিবরণ উল্লেখ থাকলেও এই দুই কয়েদির নামের বিপরীতে সাজা উল্লেখ করা হয়নি।
এরইমধ্যে, দুই বাংলাদেশির রায়ের কপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি নোট ভারবাল দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এখনো সৌদি আরবের কাছে পাঠানো চিঠির বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ছবির উৎস, Victim's Family
কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি- বাংলাদেশি কনস্যুলেটের ব্যাখ্যা
সৌদি কর্তৃপক্ষের দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শাস্তির বিষয়ে অবহিত না করা, পরিবারের যোগাযোগ না করাসহ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছে জেদ্দা কনস্যুলেট জেনারেল।
সৌদি আরবে কোন অপরাধে ও কত জন বাংলাদেশি কী শাস্তি পেয়েছে সেটিও জানানো হয়েছে কনস্যুলেটের চিঠিতে।
এতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোয় বিভিন্ন ধরনের মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশি আটক রয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে সর্বনিম্ন এক মাস এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া একই অপরাধে মক্কায় পৃথক তিন মামলায় সর্বনিম্ন ছয় মাস এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের ক্রিমিনাল কোর্টসহ অন্যান্য কোর্টে বর্তমানে অনুবাদক নিয়োগের ক্ষেত্রে 'মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহাদ' প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শুনানি চলাকালীন অনুবাদক সংক্রান্ত সহায়তা গ্রহণ করা হয়ে থাকে বলে জানানো হয়েছে চিঠিতে।
"সেক্ষেত্রে এসব কোর্টে আসামির পক্ষে অনুবাদকের বিচারিক কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না," বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরবে সাধারণত মৃত্যুদণ্ডযোগ্য গুরুতর অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের পরিবার বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেল সরাসরি অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন করে থাকে বলেও জানানো হয়।
"তবে এক্ষেত্রে উল্লেখিত দু'জনের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি বা কোনো প্রকার যোগাযোগ করেনি," বলেও উল্লেখ করেছে জেদ্দায় বাংলাদেশি কনস্যুলেট জেনারেলের চিঠিতে।
একইসঙ্গে, সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনোভাবেই দুইজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা বা রায় কার্যকরকরণ সম্পর্কেও অবহিত করা হয়নি বলেও ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয় ওই চিঠিতে।
জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সূত্রগুলো বলছে, তারা মৃত্যুদণ্ডের কথা জানতে পারলে বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দিতেন বা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তালিকা থেকেই ৩০শে সেপ্টেম্বর এই দুই নাগরিক যে জেদ্দায় নারীদের কারাগার ও জেদ্দা সংশোধনাগারে রয়েছে, সেই অবস্থান সম্পর্কে বাংলাদেশি কনস্যুলেট জেনারেল অবহিত হন।
একটি সূত্র বলছে, "সৌদি আরবের যে আইনের বিষয়গুলো, এইগুলোতে উনারা উনাদের যে প্রসিডিউর ফলো করেন, সেটা ফলো করে উনারা করেন। পরে উনারা বেশ বিস্তারিত নথিপত্র নিয়ে, তারপরে প্রমাণ সাপেক্ষে উনাদের নিজস্ব বিচারিক ব্যবস্থাপনায় এগুলো উনারা পরিচালনা করেন"।
"এই জায়গাটাতে আসলে উনারা চান না যে কেউ ইন্টারভিন করুক। মানে এখানকার সিস্টেমটা আসলে এরকম। একেক দেশে তো একেক রকম সিস্টেম থাকবে বা প্রসিডিউর থাকবে। এবং যখন আপনার উনারা সবকিছু পেয়ে যান, প্রমাণ পেয়ে যান বা সবকিছু পেয়ে যান, উনারা উনাদের মতো করে সাজা দিয়ে দেন।"

ছবির উৎস, HASSAN AMMAR/AFP via Getty Image
'অভিযোগ দেখেই আরো তৎপর হওয়া উচিত ছিল'
জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশি কনস্যুলেট জেনারেল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে জানিয়েছেন, সৌদি আরবে সাইবার (তথ্যপ্রযুক্তি) এবং জেনা বা ব্যভিচারের অপরাধে ইতোপূর্বে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই।
জেদ্দা কনস্যুলেট মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে অর্থাৎ ৩০শে সেপ্টেম্বর আড়াই হাজার বাংলাদেশির তালিকায় তাদের অপরাধ সম্পর্কে জানতে পারলেও দ্রুত ব্যবস্থা কেন নেয় সে বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন সাবেক একজন কূটনীতিক নাসিম ফেরদৌস।
ইসলামিক আইন অনুসরণকারী দেশগুলোতে জেনা অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, যেটি কূটনীতিকদের বা যারা কনস্যুলেট জেনারেল কাজ করেন, তাদের অবশ্যই জানতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, "তাহলে এটা খুবই সিরিয়াসলি নেওয়া.. সঙ্গে সঙ্গে সিরিয়াসলি নেওয়ার কথা। এখন এগুলো আইন ইন্টারপ্রেটেশনের (ব্যাখ্যা করার) ব্যাপারে যারা আছেন, তাদের যথেষ্ট ট্রেনিং কী দেওয়া হয়েছে কি না। এগুলোর ট্রেনিং না থাকলে তো বোঝা মুশকিল যে কীভাবে তারা হ্যান্ডেল হবে।"
সাবেক এই কূটনীতিক বলছেন, "যেটা করা দরকার ছিল যে, ইন্টারভেনশনটা সঙ্গে সঙ্গে করা দরকার ছিল। যে জেনা বলছে, তাহলে এটার শাস্তি কী? তখন তারা বলত যে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, এটাতো জানা কথা। জেনার কোনো মাফ নাই ওই দেশে। তো মৃত্যুদণ্ড তখনই জানা যেত এবং মৃত্যুদণ্ড হলে তো তাহলে তখনই অ্যাকশন নিতে হবে," বলেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।
একইসঙ্গে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় "অনেকগুলো গ্যাপ" রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
একইসঙ্গে, এরকম বিভিন্ন দেশে কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে যারা কাজ করেন তাদের ওই দেশের আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সৌদি আরবে সাইবার ক্রাইম ও ব্যভিচারের শাস্তি কী?
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা সৌদি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
কোরআন-হাদিসে যেসব অপরাধের কথা বলা হয়েছে সেগুলোকে বিশ্লেষণ করেই সৌদি আরবে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
তিনি বলেন, "শরিয়াহ আইনানুযায়ী, বিশেষ করে ধর্মের অনুমতি নাই, এরকম বিষয়গুলোতে আইনকে ভিত্তি করেই তারা প্রাথমিক বিচার এবং আপিলে সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত বিচার হয়।"
এর আগে, সৌদি আরবে আট বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর ঢাকায় হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তারা বেঁচে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
"এইচআরপিবির পক্ষ থেকে জনস্বার্থে একটা মামলা করেছিলাম। তখন হাইকোর্ট রুল দিলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বললেন। তখন সরকারের অ্যাম্বাসিগুলো ছুটির দিনেই ব্যবস্থা করে তাদের ব্লাড মানি দিয়ে ফাঁসিটা কিন্তু রক্ষা হয়েছিল," বলেন মি. মোরসেদ।
সেসময় সরকার ওই আটজনের পক্ষে টাকা দিয়েছিল বলে জানান তিনি।
মি. মোরসেদ বলছেন, তিন বছর ধরে দুই বাংলাদেশি কারাগারে থাকলেও এই ঘটনাটি কেউ জানে না। যদি খবরটি জানা যেত তাহলে অন্য ধরনের পদক্ষেপ নেয়া যেত বলে মনে করেন তিনি।
