আজকাল ওয়েবডেস্ক: আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার খরচ আর জনসেবায় বরাদ্দ কমানোর বিরুদ্ধে ফ্রান্সে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ যখন রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞে রূপ নিয়েছে, ঠিক তখনই এই অভ্যন্তরীণ সংকটকে ঘিরে শুরু হল তীব্র আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তরজা। ফরাসি শহরগুলোতে চলমান এই নজিরবিহীন হিংসা ও অগ্নিসংযোগের জন্য সরাসরি অভিবাসন নীতিকেই দায়ী করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কড়া বার্তা দিয়ে ট্রাম্প সাফ দাবি করেছেন, সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতি ও মানসিকতার অভিবাসীদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশের কারণেই একসময়ের মহান ফ্রান্স আজ ভেতর থেকে ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। সময় থাকতে প্যারিসকে অবিলম্বে দেশের সীমান্ত সম্পূর্ণ সিল করে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
গত শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর রবিবার সকাল থেকেই গোটা ফ্রান্সে চোখে পড়েছে ধ্বংসের ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন। প্রায় ১৮০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শতাধিক পুলিশ ও জরুরি পরিষেবাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। লিমোজেস শহরে ১৪৩ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক সিটি হল বা পুরভবন আগুনে পুড়ে আংশিক ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মতে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন, যদিও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি এই জমায়েত আট লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ছাত্র ও শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক দাবিদাওয়া নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন কিছুক্ষণের মধ্যেই রূপ নেয় চরম নৈরাজ্যে, যেখানে একাধিক শহরে দেদার চলেছে দোকান লুটপাট, সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ। ট্রাম্প কেবল সীমান্ত বন্ধের নিদান দিয়েই ক্ষান্ত হননি, ব্যঙ্গ করে ফরাসিদের দীর্ঘ বিপ্লবের ইতিহাস টেনে এনে তিনি মন্তব্য করেন যে ফ্রান্স বিপ্লব করতে বড্ড বেশি ভালোবাসে।
ট্রাম্পের সুরেই সুর মিলিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। তিনি এই হিংসার পেছনে তথাকথিত উদারনৈতিক মানসিকতা ও বহুসংস্কৃতিবাদকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। ভ্যান্সের অভিযোগ, পশ্চিমের উদারপন্থী সরকারগুলো বৈচিত্র্য ও সহানুভূতির নামে তৃতীয় বিশ্ব থেকে এমন লোকজনকে ফ্রান্সে ঢুকিয়েছে, যারা স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পুরোপুরি ব্যর্থ। লিমোজেসের শতাব্দীপ্রাচীন পুরভবন পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেছেন যে এই উন্মাদনা এখনই না থামলে আরও ঐতিহাসিক নিদর্শন ছাই হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ঘরের মাঠের রাজনীতি টেনে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ফ্রান্সের এই জ্বলন্ত পরিস্থিতিই হল আমেরিকার ডেমোক্র্যাটদের ভবিষ্যতের আসল রূপ। সব মিলিয়ে, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর দাবিতে ফ্রান্সে সাধারণ মানুষের যে লড়াই শুরু হয়েছিল, ওয়াশিংটনের শীর্ষ নেতৃত্বের আগ্রাসী হস্তক্ষেপে তা এখন বিশ্বজুড়ে এক উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিতর্কে রূপ নিয়েছে।
