নিজস্ব প্রতিবেদক · ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৪২ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের দুর্গাপূজার উৎসব-আয়োজন নিয়ে অনেক শুনেছেন। এবার নিজ চোখে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। বিশেষ করে সিলেটের পূজার আয়োজন ও ভক্তদের উৎসাহ-উদ্দীপনা তাকে মুগ্ধ করেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সিলেটের জৈনপুরের শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী গ্রীবা মহাপীঠে কুমারী পূজা দেখতে এসে তিনি বলেন, এত সুন্দরভাবে কুমারী পূজা অন্য কোথাও দেখেছেন কি না, তা সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর মনে পড়ছে না।
শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমীতে সোমবার সকাল আটটায় শুরু হয় কুমারী পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ঢাক, ঢোল, কাঁসর, শঙ্খ ও ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে পূজা শুরু হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে কুমারী দেবীর অধিষ্ঠান-আচারসহ পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সিলেটে কুমারী পূজার আয়োজন করা হলো।
পূজা দেখতে ভোর থেকেই দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরের মহালক্ষ্মী মন্দিরে ভক্তদের ভিড় জমতে থাকে। দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন। পূজা শুরুর আগেই মন্দির প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে যায় ভক্তদের উপস্থিতি।
অনিরুদ্ধ দাস বলেন, বাংলাদেশের পূজার আয়োজন নিয়ে তাঁর অনেক আগ্রহ ছিল। এখানকার মানুষ খুব উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পূজা উদ্যাপন করেন, তা তিনি আগে শুনেছেন। এবার নিজ চোখে সেই আয়োজন দেখছেন। বিশেষ করে সিলেটের পূজার আলাদা সুনাম রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতের সহকারী হাইকমিশনার বলেন, সিলেটে পূজা দেখা শুরু করেছেন আগের দিন থেকে। তবে সোমবার কুমারী পূজা দিয়ে তাঁর দিন শুরু হয়েছে। এই পূজা দেখে তাঁর খুব ভালো লাগছে। সিলেটে এবার তাঁর পূজা খুব ভালো কাটবে বলে আশা করছেন তিনি।
বাংলাদেশে এবারই প্রথম দুর্গাপূজার সময়ে অবস্থান করছেন জানিয়ে অনিরুদ্ধ দাস বলেন, তাঁর স্ত্রীও এবার বাংলাদেশে এসেছেন। ফলে পূজা দেখা তাঁর জন্য আনন্দের পাশাপাশি পারিবারিকভাবেও বিশেষ একটি সময়। বাংলাদেশে প্রথমবার কুমারী পূজা দেখার সুযোগকে তিনি আনন্দ ও সম্মানের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
মন্দিরে ভক্তদের ব্যাপক উপস্থিতির কথা তুলে ধরে অনিরুদ্ধ দাস বলেন, মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে তাঁর খুব ভালো লেগেছে। এমন আয়োজনের জন্য শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী গ্রীবা মহাপীঠের সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে পূজার সাফল্য কামনা করেন।
কুমারী পূজায় নারীশক্তির আরাধনা করা হয়। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, নারীর মধ্যে দেবী মহামায়ার শক্তির প্রকাশ রয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকে কুমারী কন্যাকে দেবী দুর্গার প্রতিরূপ হিসেবে পূজা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মাতৃশক্তির বন্দনার পাশাপাশি নারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের বার্তাও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্যের স্ত্রী দিনারা মালিক।
ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের স্ত্রী সুমনা দাস বলেন, ‘আমি জানতাম, এখানে সতী মায়ের গ্রীবা শক্তিপীঠ আছে। এখানে প্রথম কুমারী পূজা দেখছি। এখানকার মানুষের ভাব-ভক্তি ও আনন্দ দেখে খুব মুগ্ধ হয়েছি। মনে হচ্ছে, আমি কলকাতাতেই বসে আছি, কলকাতাকে মিস করছি না।’
মহালক্ষ্মী গ্রীবা মহাপীঠ মন্দিরের সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দন বলেন, এবারের পূজায় পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবার কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছেন তাঁরা। পূজার আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
