মঙ্গা-পিড়িত উত্তরের রংপুরের তারাগঞ্জ, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, চিরিরবন্দর, খানসামাসহ নীলফামারী জেলার অসহায় গরীব মানুষদের শীত নিবারণের জন্য প্রতিবারের ন্যায় এবারো নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া রেল-লাইনের ধারে বসা পুরাতন শীতবস্ত্রের দোকানগুলো নতুন করে গড়ে উঠছে।
ইতোমধ্যে রেল-লাইনের দু’ধারে প্রধান ডাকঘর সংলগ্ন রেলগুন্টি থেকে দক্ষিণ দিকে শিল্প-সাহিত্য সংসদ (সাবেক লিবার্টি সিনেমা হল) সংলগ্ন রেল-লাইনের দুই ধারে পর্যন্ত প্রায় ৪শ’ গজ জায়গা জুড়ে বসতে শুরু করেছে।
তাছাড়া সারা বছরই পুরনো কাপড়-চোপড় স্থায়ীভাবে ডাকঘর রেলঘুন্টি থেকে দক্ষিণ দিকে ১০০ গজ জায়গা জুড়ে অবৈধভাবে বসে আসছে। আর এতে করে যখন পার্বতীপুর-সৈয়দপুর-চিলাহাটি পর্যন্ত রেল-লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করে তখন এই দোকানগুলোর মালিকরাসহ ক্রেতাদের জীবন নাশে চরম হুমকি দেখা দেয়। অথচ, এসব দোকানগুলো সারাবছর ছাড়া শীত মওসুমে কিভাবে রেল-লাইনের দু’ধারে বসে এ প্রশ্ন স্থানীয় বোদ্ধামহলসহ এলাকাবাসীর।
অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ে বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা, কতিপয় অসাধূ নেতাসহ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসজুড়ে চুক্তির মাধ্যমে এসব দোকান বসে আসছে। এলাকাবাসী সূত্র জানায়, এসব দোকান বসানোর জন্য ওইসব সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগ করে তাদের অনুমতি ও নির্ধারিত জায়গায় দোকান বসাতে হয়, এটা ওপেন সিক্রেট ব্যাপার বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ ক’জন জানান, ফ্যাসিস্ট আমলেও যেমন উল্লেখিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব দোকান বসতো এখনও একই কায়দায় তা’ চালু রয়েছে। অথচ, অসহায়-গরীব মানুষদের শীত নিবারণের একমাত্র পুরনো গরম কাপড়ের দোকানগুলো অন্যত্র নিরাপদ ফাঁকা জায়গায় বসানোর দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও এলাকার নেতৃবৃন্দ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
অসহায়-গরীব মানুষদের জন্য পুরনো গরম কাপড় কেনা-বেঁচার জন্য শীত মওসুমে যেসব দোকান মালিকরা শুধু শীত মওসুমকে পুঁজি করে সিন্ডিকেটের সাথে চুক্তি করে এসব দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে যা’ লাভ হয় তাই দিয়ে তারাও জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কারণ হিসাবে নাম প্রকাশের না করার শর্তে ক’জন দোকানদার জানান, আমাদের নিজস্ব দোকানঘর নেই। তাছাড়া যেসব বড়-বড় ব্যবসায়ী শীতের জন্য পুরনো কাপড়ের বেল (বান্ডিল) নিয়ে এলে আমরা তাদের কাছ থেকে বান্ডিল খুলে সেসব কাপড় কিনে দু’পয়সা লাভের জন্য বাধ্য হয়ে রেল-লাইনের ধারে ঝুঁকি নিয়ে বসে আসছি।
এসময় তারা জানান, অসহায়-গরীব মানুষরা শীত নিবারণে এসব দোকানে ভিড় জমান। শুধু অসহায়-গরীব মানুষরা নন অনেক বিত্ববান মানুষজনও এসব দোকান থেকে বেঁছে-বেঁছে পুরনো ভালোমানের কোর্ট, সুয়েটার, মাফলার, গায়ের চাদর কিনে থাকেন। তারা আরো জানান, আমাদের নিজস্ব কোনো দোকানঘর না থাকায় দীর্ঘদিন থেকে আমাদের দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের জন্য যদি কোনো ফাঁকা ও নিরাপদ জায়গায় বসার জায়গা করে দিতেন তা’হলে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেল-লাইনের দু’ধারে দোকান বসাতাম না।
তাই, স্থানীয় বোদ্ধা মহলের মধ্যে দাবি উঠেছে, শীত মওসুমে অসহায়-গরীব মানুষদের শীত নিবারণের একমাত্র পুরনো গরম কাপড়ের দোকানগুলো ফাঁকা ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করে দোকানদার ও ক্রেতাদের জীবনের ঝুঁকি হতে রক্ষা করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
