চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের জন্য নিরাপদ, সাম্য, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির নগর গড়ে তুলতে কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এমন একটি শহর গড়ে তুলতে চাই, যেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে ও সমান মর্যাদায় বসবাস করতে পারবেন।
শনিবার (১৭অক্টোবর ) ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাপাড়া-সুন্দরপাড়া মহাশ্মশানের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৪২ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে বাস্তবায়িত ধোপাপাড়া-সুন্দরপাড়া মহাশ্মশানের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নিচতলার গাঁথুনি পুনর্নির্মাণ, প্লাস্টার, থাই গ্লাস, ফ্লোর ও পার্কিং টাইলস, গ্রিল, গেট, রং ও বৈদ্যুতিক কাজসহ শ্মশান সংস্কার করা হয়েছে।
- Advertisement -
এ ছাড়া দ্বিতীয় তলায় গাঁথুনি, থাই গ্লাস, আরসিসি বিম, কলাম ও ছাদ নির্মাণ, গ্রিল, রং ও বৈদ্যুতিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মন্দিরের বাইরে নতুন সিঁড়িঘর নির্মাণ, সিঁড়িঘরের নিচে সেফটি ট্যাংক স্থাপন, প্রবেশপথে গাইডওয়ালসহ নতুন সড়ক নির্মাণ এবং ওয়াল টাইলসের মাধ্যমে দুটি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই আমি বলে আসছি, একটি নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে চাই। এই শহর হবে সম্প্রীতির, সৌহার্দ্যের ও ভ্রাতৃত্বের শহর। সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারেন, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।
মহাশ্মশানের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ধোপাপাড়া-সুন্দরপাড়া মহাশ্মশানের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। মহাশ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাঁর কাছে এ দাবি তুলে ধরলে তিনি তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, মানুষের জীবনের শেষ বিদায়ের স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এসে কেউ যদি তাঁর পরিবারের সদস্যের শেষকৃত্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে না পারেন, তাহলে সেই কষ্ট তাঁর মনে থেকে যায়। মানুষের এই প্রয়োজন ও কষ্ট উপলব্ধি করেই আমরা মহাশ্মশানের উন্নয়নে কাজ করছি। দীর্ঘদিনের একটি যৌক্তিক দাবি পূরণ করতে পেরে আমি আনন্দিত।
মেয়র আরও বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকার মহাশ্মশানের উন্নয়ন ও সংস্কারে সিটি করপোরেশন কাজ করছে। বলুয়ারদীঘির পাড় এলাকার মহাশ্মশানে সংস্কার ও বসার স্থান উন্নয়ন করা হয়েছে। কাট্টলী এলাকার মহাশ্মশানের সমস্যার সমাধানে কাজ করা হয়েছে এবং জেলেপাড়া এলাকার মহাশ্মশানেও উন্নয়নকাজ চলছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যেসব উন্নয়নকাজ হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, আমরা একটি রেইনবো সিটি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে নিরাপদে বসবাস করবেন। আমরা সাম্যের শহর চাই, সম্প্রীতির শহর চাই। যেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম ও খ্রিস্টান সবাই মিলেমিশে থাকবেন।
মহাশ্মশানের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের ফলে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় আরও সুবিধা সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, মোহাইমিনুল ইসলাম মাহি, সনাতন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
