নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্যালকের বিরুদ্ধে। রোববার রাতে এ হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের সাবেক স্ত্রী তানিয়া ও শাশুড়ি করফুলের নেছাকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তুষ্ট লাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের মোহাম্মদিয়া নুরানি মাদ্রাসার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কামাল সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের খলিলুর রহমানের ছেলে। তার সাবেক স্ত্রী তানিয়া পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের আমজাদ হাজী মসজিদ বাড়ির আমির হোসেনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুয়া খেলা নিয়ে কামাল ও তানিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন পারিবারিক কলহ চলছিল। এর জেরে পাঁচ-ছয় বছর আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তবে বিচ্ছেদের পরও কামাল তার সাবেক স্ত্রীকে কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে বিরক্ত করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কিছুদিন আগে মেয়েকে দেখতে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে যান কামাল। তবে বাড়িতে তাকে থাকতে দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়ির পাশের মোহাম্মদিয়া নুরানি মাদ্রাসার মাঠে মাথার নিচে ইট দিয়ে ঘুমাতেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার ওই মাদ্রাসার মাঠে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কামাল তার সাবেক শ্বশুর আমির হোসেনকে ইট দিয়ে মারধর করেন। এতে আমির আহত হন। এ ঘটনার জেরে পরদিন ঢাকা থেকে আসেন কামালের শ্যালক আকাশ (২০)।
পুলিশ জানায়, রোববার রাত ১১টার দিকে মাদ্রাসার মাঠে ঘুমিয়ে থাকা কামালকে তার সাবেক স্ত্রী তানিয়া, শাশুড়ি করফুলের নেছা ও শ্যালক আকাশ ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কামালের পেটের বাঁ পাশে, পিঠে, মাথায়, হাতে ও বাঁ ঊরুতে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কামালের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী তানিয়া ও শাশুড়ি করফুলের নেছাকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
