সাধারণত বাঙালির ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর যে মূর্তি পূজিত হয়, সেখানে দেবী দ্বিভুজা। কিন্তু বামনগোলার এই মহালক্ষ্মীর ১৮টি হাতে রয়েছে নানা অস্ত্র ও প্রতীক। এক হাতে চক্র, অন্য হাতে ত্রিশূল, গদা, তীর-ধনুক, বজ্র, কুঠার, পদ্ম, শঙ্খ-সহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র। অসুরদের বধ এবং অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবেই দেবীর এই মহাশক্তিরূপকে কল্পনা করা হয়েছে বলে মনে করা হয়।
আশ্রমে দেবী বিভিন্ন রূপে—লক্ষ্মী, দুর্গা ও চণ্ডীর শক্তিস্বরূপা হিসেবে পূজিত হন। তাই এখানে লক্ষ্মীর প্রচলিত রূপের বদলে ১৮ হাতের মহাশক্তিরূপের আরাধনা করা হয়।
পুজোর আচারেও রয়েছে বিশেষত্ব
কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে ১৬ রকম উপাচারে দেবীর পুজো হয়। সকালে বস্ত্র, আলতা, কাজল, চিরুনি-সহ নানা সামগ্রী দিয়ে পুজো করা হয়। যজ্ঞে অর্পণ করা হয় ১০৮টি বেলপাতা। ভোগে থাকে পাঁচ রকম ভাজা, তিন রকম তরকারি, ডাল ও মিষ্টি।
রাতের পুজোয় চিত্রপটে মহালক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। এই ব্যতিক্রমী পুজো দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তেরা আশ্রমে ভিড় করেন। পুজো শেষে তাঁদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
বাংলার প্রচলিত লক্ষ্মীপুজোর পরিচিত ছবির বাইরে বামনগোলার এই আয়োজন দেখায়, লোকবিশ্বাস ও স্থানীয় ঐতিহ্যে একই দেবী কী ভাবে ভিন্ন ভিন্ন শক্তিরূপে পূজিত হতে পারেন।
