জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাঁর সন্ধান চেয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিআরটিসি বাসে ওঠার পর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোহাইমিনুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষে থাকতেন। রোববার বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে তাঁকে হলের সামনে থেকে ঢাকাগামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসে উঠতে দেখা যায়। পরে তাঁর আবাসিক কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁর সহপাঠীরা জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মোহাইমিনুল একটি কোর্সে অকৃতকার্য হন। পরে তিনি বিশেষ পরীক্ষার জন্য আবেদন করেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রথমে একজন শিক্ষক তাঁকে এ বিষয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করতে বলেন। পূর্ববর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনুসরণে তিনি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেন। তবে শনিবার তাঁকে জানানো হয়, কমিটি গঠন ও সময়স্বল্পতাসহ বিভিন্ন কারণে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়।
সহপাঠীদের অভিযোগ, বিশেষ পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা ছিল না এবং উপ-উপাচার্যও এ বিষয়ে অনুমতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছিলেন। তাঁদের দাবি, বিভাগীয় শিক্ষকদের সিদ্ধান্তের কারণেই জটিলতা তৈরি হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার পর বিভাগের কোনো শিক্ষক তাঁদের বা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় শিক্ষকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাভার থানায় জিডি করার পাশাপাশি ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনকে বিষয়টি জরুরিভাবে বিবেচনার জন্য জানানো হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও সংশ্লিষ্ট সবাই তৎপর রয়েছেন। থানায় জিডি করার পর পুলিশ প্রশাসন ও ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে খুঁজে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন।” নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবার সঙ্গে প্রশাসনের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপ-উপাচার্য আরও জানান, সুইসাইড নোটে উল্লিখিত বিভাগীয় অবহেলার অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটি সোমবার সকাল থেকে কাজ শুরু করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধান পেতে সবার সহযোগিতা চেয়েছে। তাঁর সহপাঠী ও পরিচিতজনদেরও সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোহাইমিনুলের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিমের ০১৭১৪০১২৩১৫ নম্বরে অথবা নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. জেফরুল হাসান চৌধুরীর ০১৭১২৬৭৪৫৫৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ি।
