লোকারণ্য ঠাকুর দেখতে নয়, পুজোর কেনাকাটায় উপচে পড়ল ভিড়Ei Samay
Published on
:
2 min read
এই সময়: শহরের বাতাসে পুজোর গন্ধ। সেই উৎসবের আমেজে পুজোর ঠিক আগের শেষ রবিবারে তিলোত্তমার রাজপথ উপচে পড়ল জনসমুদ্রে। সেই ভিড় প্যান্ডেল হপিংয়ের নয়, মহালয়ার পরের দিনের সেই ভিড় শপিংয়ের।
হাতিবাগান থেকে ধর্মতলা কিংবা দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট — সর্বত্র এ দিন ছিল থিকথিকে ভিড়। আকাশ সকাল থেকেই মেঘলা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে উপচে পড়া ভিড়ে ক্রেতাদের অবস্থা হাঁসফাঁস হলেও ব্যবসায়ীদের মুখে চওড়া হাসি। তবে ছুটির দিনে একাধিক ছাত্র সংগঠনের মিছিলে ধর্মতলা চত্বর অবরুদ্ধ হওয়ায় কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।
রবিবারের দুপুরের পর থেকেই শহরের প্রধান শপিং মল থেকে ফুটপাথের হকার্স কর্নার — কোনও জায়গাতেই তিল ধারণের জায়গা ছিল না। নতুন পোশাকের খোঁজে আট থেকে আশি, সব বয়সি মানুষের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। গড়িয়াহাটের এক নামী বস্ত্র বিপণির ম্যানেজার অরূপ চৌধুরী বলেন, 'গত কয়েক মাসের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে পুজোর আগের শেষ রবিবারের বিক্রি। সকাল থেকেই প্রচুর মানুষ এসেছেন।'
হাতিবাগানের বিক্রেতা সুমিত সাহার কথায়, 'মাঝে দুপুরের দিকে আকাশ কালো করে আসায় একটু ভয় পেয়েছিলাম। মনে হয়েছিল সব মাটি হয়ে গেল বুঝি! কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র কয়েক ফোঁটা ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হয়েই থেমে যায়। আবহাওয়া মনোরম থাকায় কেনাকাটা আরও জমে উঠেছে।'
কেনাকাটার এই জোয়ারে শামিল হওয়া ক্রেতারাও খুশি, যদিও কিছু ঝক্কিও পোহাতে হয়েছে। সোদপুর থেকে ধর্মতলায় কেনাকাটা করতে আসা অরিত্র সেনগুপ্ত বলেন, 'পরিবার নিয়ে পুজোর শেষ বাজার করতে বেরিয়েছিলাম। তবে ধর্মতলার কাছে এসে সিজেপি–র সমর্থনে আটটি ছাত্র সংগঠনের যৌথ মিছিলের কারণে দীর্ঘক্ষণ ট্র্যাফিকে আটকে থাকতে হয়।'
ট্রাফিকের এই জ্যামে কিছুটা ভোগান্তি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পছন্দের পোশাক হাতে পাওয়ার পরে সব ক্লান্তি দূর হয়ে গিয়েছে বলেই জানাচ্ছেন অরিত্র। গড়িয়াহাটে কেনাকাটা সারতে আসা কলেজ পড়ুয়া শ্রেয়া ঘোষের কথায়, 'ভিড় একটু বেশি হলেও উৎসবের এই উন্মাদনা ছাড়া পুজো ঠিক জমে না।'