প্রকাশিত: ১০:৪৪, ২০ অক্টোবর ২০২৬ আপডেট: ১০:৪৫, ২০ অক্টোবর ২০২৬
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানাতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে দুটি মরদেহ রেখে দেন। ছবি: এনডিটিভি
ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জাতিগত সহিংসতা। গত দুই দিনে পৃথক দুটি ঘটনায় চারজন নিহত হওয়ার পর পুরো ইম্ফল উপত্যকা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। যার ফলে কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে শহরের জনজীবন।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে মেইতেই ও পাঙাল মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে। সেখানে হঠাৎ করেই পাথর ছোড়া ও গুলি চালানোর ঘটনা। গুলিতে মৃত্যু হয় ২৪ বছর বয়সি এক যুবকের। এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন।
দ্বিতীয় মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ইম্ফল পূর্ব জেলার খামেনলকে। পুলিশ জানায়, নিকটবর্তী পাহাড়ে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া তিনজন গ্রামবাসীকে সন্দেহভাজন উপজাতি জঙ্গিরা গুলি করে হত্যা করে। ওই এলাকায় কুকি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই হামলায় আরো তিনজন আহত হয়েছেন।
একের পর এক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও সুরক্ষার দাবিতে সোমবার রাস্তায় নামেন স্থানীয়রা। নিহতদের মধ্যে দুজনের মরদেহ নিয়ে ক্ষুব্ধ জনতা সরাসরি ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা বাংলোর দিকে মিছিল করে এগিয়ে যান। পরে তারা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে মরদেহ দুটি রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ বরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর মর্গে পাঠায়।
এই নতুন সহিংসতার জেরে পুরো ইম্ফল জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের বিখ্যাত নারীদের পরিচালিত বাজার ‘ইমা কেইথেল’-সহ বিভিন্ন এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসাকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। খুরাই লমলোং সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে পথ অবরোধ করেন ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই এবং পাহাড়ি কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়াবহ জাতিগত সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই রক্তক্ষয় দীর্ঘ সময় পার হলেও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থার সংকট পুরোপুরি কাটেনি; বরং মাঝে মাঝেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গোলাগুলি ও প্রাণহানির খবর সামনে আসছে। সাম্প্রতিক এই চার মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যজুড়ে নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইম্ফল ও সংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।
