

ছবি:সংগৃহীত
ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় লাহিজ প্রদেশে হুথিদের সঙ্গে লড়াইয়ে আট ইয়েমেনি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিবেশী তাইজ প্রদেশে হুথিদের গোলাবর্ষণে দুই নারীসহ তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী লাহিজে আট সেনা নিহত হওয়ার খবর জানায়। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তুর আল-বাহাহ সামরিক অক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, লাহিজ প্রদেশের আল-মাকাতিরাহ ফ্রন্টে ওই সেনারা নিহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি আর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি হুথিরাও।
এর আগে শনিবার তাইজ প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে হুথিদের গোলাবর্ষণে তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও পাঁচজন আহত হন। দেশটির একটি সরকারি দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। গত জুলাইয়ে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইয়েমেনে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। সেই সময়ের পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু
মন্দিরে যাওয়ার পথে ট্রাকের চাপায় নিহত ১২
ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে তীর্থযাত্রীদের ওপর ট্রাক উঠে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন।এনডিটিভি লিখেছে, শনিবার গভীর রাতে এ দুর্ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। ধানবোঝাই ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়। গোয়ালিয়রের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার ধর্মবীর সিং জানান, রাত দেড়টার দিকে ছিনোরের দিক থেকে আসা ট্রাকটি ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা একটি খাড়া ঢালু রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারায়। পুলিশ সুপার বলেন, “এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা, বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী শীতলা মাতা মন্দিরে যাচ্ছিলেন। ছিনোরের দিক থেকে আসা সড়কটিতে একটি খাড়া ঢাল রয়েছে, যেখানে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ। রাত দেড়টার দিকে ধানবোঝাই একটি ট্রাককে সেখানে থামানো হয়েছিল। “সেটি পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে নেমে আসে এবং মন্দিরের বাইরের দেয়াল ও ফটকে ধাক্কা দেয়। সড়কে থাকা ভক্তরা ট্রাকটির নিচে চাপা পড়েন, যার ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।” ধর্মবীর সিং জানান, দুর্ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে। পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর ৩৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন। পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকিরা সামান্য আহত হয়েছেন। গোয়ালিয়রের জেলা প্রশাসক রুচিকা চৌহান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অ্যাম্বুলেন্সসহ উদ্ধারকারী যানবাহন পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। রুচিকা বলেন, “নবরাত্রির সময় ওই সড়কে একটি প্রতিবন্ধক ও পুলিশের চেকপোস্ট ছিল। তাহলে গাড়িটি কীভাবে ভেতরে ঢুকল, তা তদন্তের বিষয়।” ট্রাকটি কীভাবে ব্যারিকেড পার হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাকটির যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা পরীক্ষা করতে আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের (আরটিও) একটি দল পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা তাদের সিটি স্ক্যান ও এক্সরে করছেন। ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “এ ঘটনা রাত ১টার দিকে ঘটেছে। আমি কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই মারা যেতে দেখেছি। ট্রাকটিতে অতিরিক্ত মালবোঝাই ছিল। “সেটি হঠাৎ এসে কয়েকটি দোকান ও মানুষের ওপর উঠে যায়। আমার ভাইও আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থলে এখনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।”

অভিজিৎ মুক্তি পেলেও এখনো কারাবন্দি সিজেপির দুই নেতা
দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার মুক্তির আবেদন করা হয়েছে। জামিনদারদের কাগজপত্র জমা দিয়ে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ আবেদন করেছেন দলটির আইনজীবীরা। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইনজীবীদের দাবি, আটকের দিন জামিনদার উপস্থিত না থাকায় সৌরভ ও আশুতোষকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। এদিকে মুক্তি পাওয়ার পর ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপি-র অন্য দুই নেতার একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, এখন শুধু আমার ভাইদের মুক্তির অপেক্ষায় আছি। তবে, দিল্লি পুলিশ তাদের জামিনদারদের তথ্য যাচাই করছে বলে জানিয়ে ভারতে একাধিক গণমাধ্যম। বুধবার সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে পাঁচ দিনের জন্য তিহার কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের অভিযোগ, তারা শান্তি রক্ষার মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেছেন এবং যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশ করেছেন। সম্প্রতি দিল্লির এই স্থানটিকে বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থানের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা অজিঙ্কা শিন্ডেকে শান্তি রক্ষার মুচলেকায় সই করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য, বারবার নিয়ম ভঙ্গ, জনশান্তি বিঘ্নিত করা কিংবা অন্যদের উসকে দেওয়ার আশঙ্কায় সৌরভ ও আশুতোষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে একটি বিক্ষোভের সময় আটক হওয়ার পর তারা এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার মুচলেকায় সই করেছিলেন। এদিকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘আশু ও সৌরভকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তাদের অপরাধ কী? যন্তর মন্তরে তেরঙ্গা ওড়ানো।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন একটি মুচলেকায় (পিস বন্ড) সই করার পর শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশ তাকে মুক্তি দেয়। এর আগে শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে দলের ঘোষিত ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় ঝান্ডেওয়ালানে নিজ বাসভবনের কাছ থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

মজুরি ও ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ১২০০
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি ও জনসেবার অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আহত হয়েছেন ১৫০ পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১ হাজার ২০০ জন বিক্ষোভকারীকে। সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে এএফপি। বিবিসি জানিয়েছে, শনিবারের (১৭ অক্টোবর) বিক্ষোভ কর্মসূচি একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। মুখোশ পরা একদল তরুণ বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। রাস্তায় পার্ক করা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সহিংসতার পর রাজধানী প্যারিসের বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার বলেন, শহরের পুরো কয়েকটি সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিক্ষোভের সময় বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার তীব্রতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। তিনি জানান, এ ঘটনায় ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তা। সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি না হওয়াটা অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করেন লেকর্নু। বিক্ষোভে লাখো মানুষ ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ।কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছিল দেশটিতে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবারের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ে। তবে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন এবং আতশবাজি ছোড়েন। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। বিক্ষোভ চলাকালে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাঁ-এতিয়েনে গুরুতর আহত হয়েছে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। জনতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেডের আঘাতে তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও সংঘর্ষের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে এ সহিংসতা দেখা দিল। জীবনযাত্রার ব্যয়, মজুরি এবং জনসেবার মান নিয়ে মানুষের অসন্তোষের মধ্যে দেশজুড়ে বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং পরবর্তী সহিংসতা সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে বিক্ষোভের কারণে আগামী নির্বাচনে কী প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। দেশজুড়ে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

ভারতের মধ্যপ্রদেশে মন্দিরে ট্রাক, নিহত ১২
ভারতের মধ্যপ্রদেশের শহর গওয়ালিয়রে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১২ জন দর্শনার্থী নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) গভীর রাতে গওয়ালিয়রের শীতেলা মাতা মন্দিরের কাছে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। একটি নিয়ন্ত্রণহীন ভারী ট্রাক পুলিশের চেকপোস্ট ও ব্যারিকেড ভেঙে মন্দিরের আশপাশে সমবেত দর্শনার্থীদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী আহত হয়েছেন। খবর এনডিটিভি'র। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্যে প্রকাশ, ধানবোঝাই একটি ভারী ট্রাক চিনোর দিক থেকে গওয়ালিয়রের দিকে আসছিল। পথিমধ্যে একটি তীব্র ঢালু রাস্তায় পৌঁছানোর পর ট্রাকটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। লক্ষণীয় যে, ওই নির্দিষ্ট ঢালু ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় ভারী যান চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ট্রাকটি ওই পথ দিয়ে প্রবেশ করে এবং ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিবরণ অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকটি প্রথমে মন্দিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের ব্যারিকেড ও চেকপোস্ট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর গতি আরও বেড়ে গেলে রাস্তার ওপর অবস্থান করা বা সমবেত হওয়া দর্শনার্থীদের ওপর ট্রাকটি সজোরে চালিয়ে দেওয়া হয়। তীর্থযাত্রীদের চাপা দেওয়ার পর ভারি ট্রাকটি সোজা গিয়ে ধাক্কা খায় শীতেলা মাতা মন্দিরের মূল গেট এবং সুরক্ষিত বাইরের দেয়ালে। ধাক্কার তীব্রতায় মন্দিরের গেট ও দেয়ালের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। গওয়ালিয়রের সিনিয়র সুপারিনটেন্ডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) ধর্মবীর সিং সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই আহত অবস্থায় মোট ৩৯ জনকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১২ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, হতাহতদের মধ্যে অন্তত ৫ থেকে ৬ জন দর্শনার্থীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বাকি আহতরা তুলনামূলকভাবে সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অনেকেই হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। এই দুর্ঘটনায় পুরো গওয়ালিয়র এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মন্দিরে সমবেত হওয়া সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের পরিবারের মধ্যে চলছে আহাজারি। এদিকে, পুলিশ প্রশাসন পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে ভারী যানটি নিষিদ্ধ পাহাড়ি ও ঢালু রাস্তায় প্রবেশ করল এবং চালক মদ্যপ ছিলেন কি না কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে।

ককরোচদের পর মোদির বিরুদ্ধের এবার নামছে ‘মাছি জনতা পার্টি’
ভারতে চলমান ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সঙ্গে এবার রাজপথের আন্দোলনে যোগ দিয়েছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘মাছি জনতা পার্টি’। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে দলটি। তাদের আগমনে মোদিবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা, তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা ও কৌতূহল। ভারতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করল এক নতুন রাজনৈতিক স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ— মাছি জনতা পার্টি (Makhi Janta Party - MJP)। প্রধান বিচারপতির ‘মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না’ (hammer to kill a fly) মন্তব্য থেকেই মূলত অনুপ্রাণিত হয়ে ইনস্টাগ্রামে এই প্ল্যাটফর্মটি গড়ে উঠেছে। আত্মপ্রকাশের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকাউন্টটিতে ৪০ লক্ষেরও বেশি ভিউ এবং ৩.৩ লক্ষের বেশি অনুগামী (Followers) যুক্ত হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে মাছি জনতা পার্টি জানিয়েছে, তারা আরেকটি ব্যঙ্গাত্মক গণআন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সঙ্গে যোগাযোগ করে যৌথভাবে কর্মসূচি পালনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। সম্প্রতি যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী আন্দোলনকারী নেহা বোরাকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি সিজেপি-র দুই শীর্ষ নেতার পুলিশি আটকের কড়া সমালোচনা করে দুটি পৃথক বিবৃতি জারি করেছে এমজেপি। মাছি জনতা পার্টি কী? মক্ষি বা মাছি জনতা পার্টি — এমজেপি হলো ইনস্টাগ্রাম কেন্দ্রিক একটি ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম। ডিজিটাল রেকর্ড অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টটি ২০২১ সালের জুনে তৈরি হলেও অন্তত ৮ বার নাম পরিবর্তনের পর বর্তমানে ‘makhijantaparty.ig’ ইউজারনেম নিয়ে সক্রিয় হয়েছে। আর্যন (Aaryan) নামের এক ছাত্র নিজেকে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে দাবি করেছেন। সম্প্রতি এক পোস্টে সংগঠনের তরফে মুখপাত্র খোঁজার বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও এমজেপির বার্তা গত ৯ অক্টোবর সিজেপির ১০ অক্টোবরের প্রস্তাবিত দিল্লি স্তব্ধ করার কর্মসূচির আগে রাজধানীতে ইন্টারনেট, মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা জারির বিরুদ্ধে এক পিটিশনের শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেই সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ কড়া পর্যবেক্ষণ জানিয়ে বলেন, ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনে গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, কিন্তু পুরো ব্যবস্থা স্তব্ধ করা যায় না। একটা মাছি মারতে তো আর হাতুড়ি ব্যবহার করা চলে না।’ সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


