দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির দায়ে দুই মন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এনসিপির আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে এনসিপি আহ্বয়াক নাহিদ ইসলাম এ দাবি করেন।
এদিন স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেন, গত সাত মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে দেশে তিন দফায় জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের দূরদর্শী কোনো পরিকল্পনা নেই। তাই ব্যর্থতার দায় নিয়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণবিরোধী সরকার এবং এটিকে আমরা এখন একটি অগণতান্ত্রিক সরকারও বলতে পারি, যেহেতু তারা সংস্কার বাস্তবায়ন করেনি। গণবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ ছাড়া জনগণের অধিকার আদায় হবে না। ফলে আমাদের সুস্পষ্ট দাবি- আমরা মনে করি, সার্বিক ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
এনসিপি আহ্বয়াক আরও বলেন, আপনারা দেখবেন- জ্বালানিমন্ত্রীকে কথা বলতেও দেওয়া হয় না। তিনি এখন কথাও বলেন না। জ্বালানি খাতের যে ব্যর্থতা, গত সাত মাসে সরকার এ বিষয়ে কোনো ধরনের উদ্যোগ নিতে পারেনি। ফলে জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবেও তার থাকার আর কোনো অধিকার নেই। বলতে গেলে, মন্ত্রিপরিষদে একজন একজন করে তালিকা বাড়তেই থাকবে। তবে আপাতত আমরা মনে করছি, এই দুজনকে সরিয়ে দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ পুনর্গঠন করা উচিত।
দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশে এবার খুব শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা শেষ হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের আপামর শান্তিপ্রিয় জনগণকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে সংখ্যালঘু ও দলিত মুসলমানদের ক্রমাগত নিপীড়ন-নির্যাতন করা হচ্ছে। আসাম, পশ্চিমবঙ্গসহ দিল্লিতে মসজিদ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, মুসলমানদের ঘরবাড়ি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এই দুই দেশের চিত্র দেখলেই বোঝা যায়, কোন দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এবং কোন দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন করা হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সাইবার আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনী কোনোভাবেই সংসদে পাস হতে দেওয়া হবে না। গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন আইনের মতো কর্তৃত্ববাদী আইনগুলো বাতিল করতে হবে। এ ছাড়া জুলাই গণহত্যা ও গুম-খুনের বিচার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের ওপর হামলার ঘটনায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
