জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাইয়ে সালিস বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার মালিপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন সুবর্ণা মালি (৪০), মলিনা রানী মালি (৫৫), গোবিন্দ মালি (৪৫), জয়চন্দ্র মালি (২৫) ও চিচোরুন মালি (৪৬)। এর মধ্যে তিনজনকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ও একজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুনট ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের এক কিশোরীকে বিজয়া দশমীর দিন সিঁদুর দিতে চেয়েছিলেন একই গ্রামের এক যুবক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। মীমাংসার জন্য ওই দিন রাতে সালিস বসে। আলোচনার শুরুতেই কথাকাটাকাটি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এক পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ তাঁদের তিনটি বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় একজনের পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং আরও একজন আহত হন। এ ছাড়া টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৬ লাখ টাকার মাল লুট করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। অপর পক্ষের লোকজনের দাবি, প্রতিপক্ষ তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে তাঁদের তিনজন আহত হয়েছেন।
অভিযুক্ত যুবক বলেন, ‘সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চেয়েছি, কিন্তু দিইনি তো। এটা কেমন অপরাধ। এর জন্য বাড়িতে হামলা করেছে, ভাঙচুর চালিয়েছে। এমনকি একজনের পায়ের রগ পর্যন্ত কেটে দিয়েছে। হামলার সময় বাড়িঘর থেকে টাকা, স্বর্ণালংকারসহ অনেক মাল লুট করে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে মামলা করা হবে।’
এ বিষয়ে পুনট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম জানান, সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চাওয়ার ঘটনাটি ওই কিশোরী তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানায়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা হয়। একপর্যায়ে রাতে উভয় পক্ষ সালিসে বসে। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

