Published on
:
2 min read
দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। তবে এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমন একটি বিশেষ রীতি, যা আজও বহু পরিবারে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে খোলা আকাশের নীচে একটি বিশেষ জিনিস রেখে দেওয়ার রীতি রয়েছে। মনে করা হয়, পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় এই জিনিস বিশেষ পবিত্রতা লাভ করে। পরদিন সেই তা দেবীকে নিবেদন করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়। কী সেই জিনিস? কেন তা দেবীকে নিবেদন করতে হয়?
কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে কী রাখা হয় খোলা আকাশের নীচে?
হিন্দু শাস্ত্র ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে নেমে আসেন। কোজাগরী শব্দের অর্থ ‘কে জাগে’। এই রাতে অনেকেই জেগে থেকে দেবীর আরাধনা করেন।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এই রাতে দুধ, চাল ও চিনি দিয়ে ক্ষীর তৈরি করে একটি পাত্রে রাখা হয়। তার পর সেই পাত্র খোলা আকাশের নীচে রেখে দেওয়া হয়, যাতে ক্ষীরের উপর চাঁদের আলো পড়ে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, চাঁদের আলোয় ক্ষীর অমৃততুল্য হয়ে ওঠে। পরদিন পুজোর পর সেই ক্ষীর প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
কী ভাবে পালন করবেন এই রীতি?
কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে বাড়িতেই দুধ, চাল ও চিনি দিয়ে ক্ষীর তৈরি করতে পারেন। ক্ষীর তৈরি হয়ে গেলে পরিষ্কার, ঢাকনাহীন পাত্রে তা রেখে এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে চাঁদের আলো পড়ে। পাত্রটি অবশ্যই নিরাপদ ও পরিষ্কার স্থানে রাখবেন, যাতে ধুলোবালি বা পোকামাকড় খাবারে না ঢোকে। পরদিন সকালে বা পুজোর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ক্ষীর দেবী লক্ষ্মীকে নিবেদন করে প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
মেলে সুখ-সমৃদ্ধির আশীর্বাদ
কোজাগরী পূর্ণিমায় ক্ষীর নিবেদনের রীতি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বহু পরিবারের কাছে এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্য। দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা, পূর্ণিমার চাঁদের আলো এবং পরিবারের সকলের সঙ্গে প্রসাদ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে রয়েছে উৎসবের এক আন্তরিক আবহ। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠাভরে দেবীর পুজো করলে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।
FAQ
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় চাঁদের আলোয় কী রাখা হয়?
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দুধ, চাল ও চিনি দিয়ে তৈরি ক্ষীর খোলা আকাশের নীচে চাঁদের আলোয় রাখা হয়।
কোজাগরী পূর্ণিমায় ক্ষীর রাখার রীতি কেন প্রচলিত?
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় ক্ষীর অমৃততুল্য হয়ে ওঠে। এই প্রথা দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনার সঙ্গে যুক্ত।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর ক্ষীর কী ভাবে তৈরি করবেন?
দুধ, চাল ও চিনি দিয়ে বাড়িতেই ক্ষীর তৈরি করা যায়। ক্ষীর তৈরি হলে পরিষ্কার পাত্রে রেখে নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে।
চাঁদের আলোয় রাখা ক্ষীর কখন দেবী লক্ষ্মীকে নিবেদন করবেন?
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, পরদিন পুজোর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ক্ষীর দেবী লক্ষ্মীকে নিবেদন করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা যায়।
‘কোজাগরী’ শব্দের অর্থ কী?
‘কোজাগরী’ শব্দটি ‘কে জাগে’ অর্থের সঙ্গে যুক্ত। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী মর্ত্যে ঘুরে দেখেন কে জেগে তাঁর আরাধনা করছেন।
