মৌলভীবাজার শহরের সৈয়দ সিকন্দর আলী রোডের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম রুমন তাঁর বিরুদ্ধে ২৩ অক্টোবর কিছু ব্যক্তি কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, একটি প্রতারক চক্রের কারণে তিনি নিজে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন এবং সেই সত্য আড়াল করে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে কিছু লোক মিথ্যা, কাল্পনিক তথ্য প্রচার করছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) লিখিত বক্তব্য তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের দালিলিক জবাব দেন এবং নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
আতিকুল ইসলামের দাবি ও বাস্তবতা
সংবাদ সম্মেলনে আতিকুল ইসলাম কর্তৃক ৩৬ লক্ষ টাকা পাওনা ও পরিশোধ না করার অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আব্দুল কাইয়ুম রুমন। তিনি জানান, সিটি ব্যাংকের নিজ হিসাব থেকে বিভিন্ন তারিখে মোট ২৫ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা আতিকুল ইসলামের ইস্টার্ন ব্যাংক মৌলভীবাজার শাখার পার্সোনাল অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করেছেন। গত ০৭/০৬/২০২৪ ও ১৬/০৫/২০২৪ তারিখে ৫ লক্ষ টাকা করে প্রদানসহ ২০১৪ ও ২০১৫ সালের বিভিন্ন সময়ে পরিশোধিত এসব টাকার ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি সংবাদকর্মীদের কাছে সরবরাহ করেন তিনি।
এম.ডি জয়নুল ইসলামের পাওনা ও শালিশী ফয়সালা
এম.ডি জয়নুল ইসলামের ২১ লক্ষ টাকা পাওনার অভিযোগের বিষয়ে রুমন জানান, ইতিপূর্বে মৌলভীবাজারের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতে শালিশী বৈঠকের মাধ্যমে তাঁর পাওনা ১৫ লক্ষ টাকা সাব্যস্ত হয়। সেই শালিশী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিটি ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে জয়নুল ইসলামের উত্তরা ব্যাংক মৌলভীবাজার শাখার অ্যাকাউন্টে ১২ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে, যার ব্যাংক স্টেটমেন্ট তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে।
জুয়েনা আক্তারের অভিযোগ প্রসঙ্গে
জুয়েনা আক্তারের ২৯ লক্ষ টাকা পাওনার দাবিকেও পুরোপুরি সত্য নয় বলে উল্লেখ করেন রুমন। তিনি জানান, জুয়েনা আক্তারের স্বামী আব্দুল আহাদের ব্যাংক এশিয়া অ্যাকাউন্ট এবং সিটি ব্যাংক থেকে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে মোট ১২ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
বিচারাধীন বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও আদালত অবমাননার প্রশ্ন
কামরান আহমেদ ও লিপি বেগম (দেবর-ভাবী) সম্পর্কে রুমন বলেন, হবিগঞ্জ আদালতে তাদের দায়ের করা চেকের মামলা বর্তমানে বিচারাধীন (সাব জুডিসিয়াল ম্যাটার)। বিজ্ঞ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় তারা কীভাবে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এটি আদালতের অবমাননা কি না, তা আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে আদালতের নজরে আনবেন বলে জানান তিনি। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বাবুল মিয়া নামের যে ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে ওই ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে এটি মিথ্যা অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেন।
মূল ঘটনা: ভিসা জালিয়াতি ও প্রতারক চক্রের খপ্পরে সর্বস্বান্ত
ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম রুমন বলেন, তিনি মূলত একটি ভিসা জালিয়াতি চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে মারাত্মকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছেন। লোকজনকে বিদেশে পাঠানোর জন্য জাল কাগজপত্র দিয়ে প্রতারক চক্র তাঁর নিকট থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।
সানি (বড়কাপন): তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে মৌলভীবাজারের গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতা ও শালিশের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি টাকা বাদ দিয়ে বাকি পাওনা টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
অন্যান্য প্রতারক: তাঁর দায়েরকৃত মামলার চার্জশিটভুক্ত এক আসামি বর্তমানে অন্য মামলায় জেলহাজতে আটক আছেন, যার কাছে তাঁর প্রায় ২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।
তিনি বলেন, পাওনাদারদের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের জন্য তিনি পৈত্রিক জায়গা-জমি বিক্রি ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তা নিয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি পালিয়ে যাননি বা আত্মগোপনও করেননি, বরং প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
মামলার সাক্ষীরাই এখন প্রতিপক্ষ!
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় উল্লেখ করে রুমন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনকারী আতিকুল ইসলাম, এম.ডি জয়নুল ইসলাম, জুয়েনা বেগম, কামরান আহমদ এবং লিপি বেগম—এই ৫ জনই তাঁর দায়ের করা প্রতারণা মামলার সাক্ষী। অর্থাৎ, তিনি যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে তারা সবাই সম্পূর্ণ অবগত। তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্মানহানির জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
আইনি পরামর্শ নিয়ে মানহানিকর এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। এলাকার সন্তান ও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে দেশ ও জাতির বিবেক সাংবাদিকদের প্রতি তাঁর আহ্বান, একপক্ষীয় ও মিথ্যা সংবাদ প্রচার না করে সত্য তথ্য তুলে ধরে সঠিক বিচার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করুন।

