কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেছে বিভিন্ন দেশের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। এর মধ্যে রয়েছে আমেরিকান ডলার, সৌদি রিয়াল, ভারতীয় রুপি, আমিরাতের দিরহাম, মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত, ব্রিটিশ পাউন্ড ও কুয়েতি দিনার রয়েছে।
একই সঙ্গে দানবাক্সে মিলেছে ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপার অলঙ্কার।
সোমবার সকাল পৌনে ১০টা থেকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, স্বর্ণের ক্যারেট যাচাই এবং বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজ শুরু হয়।
সন্ধ্যার দিকে স্বর্ণ ও রুপার পরিমাণ নির্ধারণ সম্পন্ন হলেও বৈদেশিক মুদ্রার গণনা ও হিসাব নির্ধারণের কাজ শেষ হয় রাত সাড়ে ১০টায়।
পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, দানবাক্সে আমেরিকান ডলার ৮ হাজার ৫৭, সৌদি রিয়াল ৫৭ হাজার ৪১৪, ভারতীয় রুপি ৩৭ হাজার ৮৭৭, মালয়েশিয়ান রিংগিত ২৯ হাজার ৬৬২, আমিরাতের দিরহাম ১৪ হাজার ২৪০, কুয়েতি দিনার ৭৬৭, ওমানি রিয়াল ৮৮৮, কাতারি রিয়াল ৭ হাজার ৯৭৩, বাহরাইনি দিনার ৩৩৩, সিঙ্গাপুর ডলার ১ হাজার ৭১৮, ব্রিটিশ পাউন্ড ১ হাজার ২২০, ইউরো ৫ হাজার ২৪৫, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৫৫৫, কানাডিয়ান ডলার ২৫, মালদ্বীপের রুফিয়া ৯০০, ভারতীয় রুপি ৩৭ হাজার ৮৭৭ এবং চীনা ইউয়ান ৩০৫ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ৬৬৭টি ধাতব মুদ্রা পাওয়া গেছে।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নয়টি মাঝারি আকারের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালাকৃত খাম খুলে স্বর্ণ-রুপার পরিমাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিখানা থেকে স্বর্ণ ও রুপার তৈরি অলঙ্কারাদি কড়া পুলিশ প্রহরায় সম্মেলন কক্ষে আনা হয়।
পাগলা মসজিদে আগত দর্শনার্থীরা নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রুপার তৈরী অলঙ্কারাদি এবং বৈদেশিক মুদ্রা দান করে থাকেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপ-কমিটির তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বর্ণ, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা এবং ওজন নির্ধারণ কার্যক্রমে সার্বিক নিরাপত্তায় তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ পুলিশ সদস্য ও ছয় এসআরবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছয়জন কর্মচারী, মসজিদের কর্মচারী, জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ কাজে সহযোগিতা করছেন।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অলঙ্কারাদি গণনা ও নিলামে বিক্রির কার্যক্রমে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ।
সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে পাওয়া স্বর্ণ ও রুপার তৈরি অলঙ্কারাদি ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। তখনকার নিলামে প্রায় ৩ বছর ধরে দানসিন্দুকে জমা হওয়া ৪১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৪ ভরি রুপা এই টাকায় বিক্রি করা হয়।
এ ছাড়া তখন পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে দান হিসেবে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বিক্রি করে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৬১ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।
২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ বার দানবাক্স খোলা হয়েছে। সর্বশেষ ২৭ জুন দানবাক্স খোলা হয়।
বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা।
এ ছাড়া মসজিদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে এ পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।
পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ মসজিদের উন্নয়ন ও অন্যান্য ব্যয়, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদ্রাসা, এতিমখানা ও গোরস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
আরও পড়ুন:
