Published on
:
2 min read
এক বছরের জন্য বিদায় নিয়েছেন উমা। কিন্তু তাই বলে বাঙালির উৎসব-পার্বণে ছেদ নেই। দুর্গাপুজো মিটতেই গৃহস্থের ঘরে ঘরে শুরু হয়ে গিয়েছে লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি। শারদ পূর্ণিমায় সমৃদ্ধির দেবীর আরাধনা করা হয়।
দুর্গাপুজোর অবসানের পর এ বার কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর পালা। আশ্বিন বা কার্তিক পূর্ণিমা তিথিতে গৃহস্থ বাড়িতে সম্পদের দেবীর আরাধনা করার রীতি প্রচলিত আছে। বিশেষ করে পূর্ববঙ্গীয় হিন্দু বাঙালি সমাজের মধ্যে শারদ পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপুজো করার প্রথা আছে। এই পুজোকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো বলা হয়। ধন, যশ, খ্যাতি ও সুস্বাস্থ্য লাভের আশায় মা লক্ষ্মীর আরাধনা হয় ঘরে ঘরে। জেনে নিন এই বছর কবে পালিত হবে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ২০২৬
শারদ পূর্ণিমা পড়বে আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৬ রবিবার এবং পূর্ণিমা ছেড়ে যাবে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার। জেনে নিন বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও গুপ্তপ্রেস অনুসারে কখন থাকছে মা লক্ষ্মীর আরাধনার উপযুক্ত সময়।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে:
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালিত হবে ২৫ অক্টোবর রবিবার, বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৭ কার্তিক, ১৪৩৩। পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে ২৫ অক্টোবর সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে। পূর্ণিমা তিথি শেষ হবে ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে।
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে:
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পালিত হবে ২৫ অক্টোবর রবিবার, বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৭ কার্তিক, ১৪৩৩। পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে সকাল ১০টা ৫৭ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে। পূর্ণিমা তিথি শেষ হবে ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো যেহেতু রাতে হয়, তাই ২৫ অক্টোবর রাতেই লক্ষ্মীপুজো করতে হবে। ঘরে ঘরে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনির মাধ্যমে আরাধৃতা হবেন মা লক্ষ্মী।
দৃক পঞ্জিকা অনুযায়ী ২৫ অক্টোবর রাতে নিশীথ পুজোর সময় রাত ১০টা ৫৬ মিনিট থেকে শুরু হয়ে রাত ১১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। অর্থাৎ, প্রায় ৫০ মিনিট ধরে থাকবে কোজাগরী পুজোর শুভ সময়। তবে বাঙালি পরিবারে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সন্ধ্যাতেও লক্ষ্মীপুজো করা হয়। পুজোর সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে পারিবারিক প্রথা ও স্থানীয় পঞ্জিকা অনুসরণ করা যেতে পারে।
শারদ পূর্ণিমা মাহাত্ম্য
শরৎ কালের পূর্ণিমা বলে একে বলা হয় শারদ পূর্ণিমা। একে কৌমুদী পূর্ণিমা বা কোজাগরী পূর্ণিমাও বলা হয়ে থাকে। সাধারণত আশ্বিন মাসে হলেও এই বছর বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হচ্ছে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, শারদ পূর্ণিমার রাতে চাঁদের ষোলো কলা পূর্ণ হয়। সেই দিক থেকে এই পূর্ণিমার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। মনে করা হয়, এই পূণ্যতিথিতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন মা লক্ষ্মী।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এই দিনে চাঁদের আলোয় মর্ত্যলোকে নেমে আসেন সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী। যাঁরা এ দিন সারা রাত জেগে লক্ষ্মী দেবীর আরাধনা করেন, তাঁদের সংসারে বিরাজ করেন তিনি। মনে করা হয় চাঁদের আলোয় এ দিন মধু ঝরে। কোজাগরী পূর্ণিমায় পায়েস রান্না করে তা সারা রাত চাঁদের আলোয় রেখে, পরের দিন সকাল প্রসাদ হিসেবে এই পায়েস খাওয়া বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। এর ফলে আপনার মনের সব ইচ্ছে পূরণ হবে এবং আপনার সংসার ধন সম্পদে ভরে উঠবে।
