আাগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় ও দাঁড়িপাল্লার বিজয় হবে বুঝতে সসস্ত্র সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধের চেষ্টা করছে একটি রাজনৈতিক দল।
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
আাগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় ও দাঁড়িপাল্লার বিজয় হবে বুঝতে সসস্ত্র সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধের চেষ্টা করছে একটি রাজনৈতিক দল। দাঁড়িপাল্লা সমর্থনে ঠাকুরগাঁওয়ের পাড়া-মহল্লায় যেভাবে গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এই গণজোয়ার দেখে সন্ত্রাসীদের গডফাদারের মাথা নষ্ট হয়েছে। এজন্যই দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় যতবেশি বাধা আসবে, জনগণ ততবেশি দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়বে। জনগণ নির্বাচনী মাঠে নামতে শুরু করলে মাদক-সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের গডফাদারের পরাজয় ঠেকানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষ সদস্য, ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। গতকাল বুধবার সকালে ভুল্লী উপজেলার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের সেনপাড়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এবারের নির্বাচন মাদক, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে। মাদক, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে ঠাকুরগাঁওকে শান্তির নীড় হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাঁড়িপাল্লা মার্কা নির্বাচিত হলে সমাজে কোনো মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ থাকবে না, থাকতে পারবে না। মনে রাখবেন আমাদের প্রতিপক্ষ একটি দল আছে, এরা নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করে। যেই দলের প্রধান জনগণকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার গঠন করার পর গণভোটের রায় মেনে নেয়নি, যেই দলের শীর্ষ নেতারা বলে আমাদের ওই প্রতিশ্রুতি ছিল নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার জন্য, সেই দলের মার্কায় আর ভোট দেওয়া যায় না, যাবে না। যদি আবারও ভুল করে সেই দলের মার্কা ভোট দেওয়া হয় তবে জনগণ আবারও প্রতারিত হবে, জুলুমের শিকার হবে, শোষণের শিকার হবে। দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিলে জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফেরত আসবে, জনগণের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।
নির্বাচনী বৈঠকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী নয়, যারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে ঠাকুরগাঁও বাসীর এমপি হতে চায়, তারাই প্রতিপক্ষের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা সৃষ্টি করে। যখন একজন প্রার্থী মসজিদ থেকে নামাজ আদায় করে বাইরে আসলে আরেকজন প্রার্থীর সমর্থনে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আক্রমণের চেষ্টা করে, প্রচারণা বাধা দেয় তখন বুঝতে বাকি থাকে না ওই প্রার্থীর অনুসারী কেবল সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজেরা। কোনো সমাজে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের গডফাদারের হাতে সমাজের নেতৃত্ব চলে গেলে ওই সমাজের মানুষ জুলুম ও শোষণের শিকার হতে হয়। জুলুম ও শোষণের হাত থেকে বাঁচতে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঠাকুরগাঁও গড়তে তিনি স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান রাশেদ প্রধান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন শুখানপুকুরী ইউনিয়ন আমীর মাওলানা আব্দুস সামাদ। ইউনিয়ন সেক্রেটারি আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান। এসময় স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রশাসনের সহায়তা ও নিরপেক্ষ ভূমিকা কামনা: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে এবং নির্বিঘেœ নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে প্রাশাসনের সহযোগিতা ও নিরেপক্ষে ভূমিকা প্রত্যাশ করেছেন । গতকাল বিকালে ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মোঃ সানাউল্লাহর সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকেদের তিনি এ কথা জানান। সম্প্রতি দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী গণসংযোগ ও সভা সমাবেশে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা বাঁধা দিচ্ছেন এবং দাঁড়িপাল্লার কর্মী সমর্থকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়টি তিনি নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান। এ সময় জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান, প্রেস সেক্রেটারী অধ্যক্ষ শাহজালাল জুয়েল, অ্যাড. ইউনুছ আলী, অ্যাড. ফজলে অলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
