দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে শিশু নির্যাতন মামলায় কামরুলের ১০ বছরের কারাদণ্ড
দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে ছয় বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় প্রতিবেশী কামরুলকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তাঁকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। আসামি পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
জার্নাল ডেস্কআট বছর আগে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে খাবার খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ছয় বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় প্রতিবেশী কামরুলকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
শনিবার এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার চতুর্থ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম (জর্জ) বলেন, “দণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”
আসামি পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৌঁসুলি এরশাদ আলম।
কামরুল দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের নতুন বাক্তারচরের মৃত সিরাজের ছেলে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের নতুন বাক্তারচরে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসে শিশুটি। ২০১৮ সালের ১৫ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটি খেলছিল। মজার খাবার খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের ঘরে নিয়ে যান প্রতিবেশী কামরুল। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়ন করা হয়।
ভয়ে শিশুটি চিৎকার করে ওঠে। তখন তার মা, নানা-নানি দৌড়ে কামরুলের ঘরের কাছে যান। দরজা খুলতে বললেও তিনি দরজা খোলেননি। পরে ঘরের টিনের বেড়া ভেঙে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। লোকজন কামরুলকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
পরদিন শিশুটির মা দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ১ মে কামরুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন ওই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক।
২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১০ সাক্ষীর মধ্যে নয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
সিগনেচার: বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম