Published on
:
2 min read
এই সময়, নয়াদিল্লি: প্রোটোকল অনুযায়ী সাংসদ ও বিধায়কদের জন্য সার্কিট হাউস বুকিং করতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে— শুক্রবার সাফ জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট৷ নদিয়ার কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ (বর্তমানে ‘মমতা তৃণমূল’) মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেছিলেন, গত ১৪ অগস্ট জেলার সার্কিট হাউসের বৈধ বুকিং থাকা সত্ত্বেও তাকে সার্কিট হাউস খালি করার জন্য চাপ তৈরি করেছিল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার৷ শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছে, সার্কিট হাউস বুকিং সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি রাজ্য প্রশাসন জারি করেছিল, তাতে সংশোধন করতে হবে৷ চার দিনের পরিবর্তে এক দিন আগে সংশ্লিষ্ট সাংসদ বা বিধায়ক সার্কিট হাউস বুক করার আবেদন করলেও তা বিবেচনা করতে হবে৷
এ ক্ষেত্রে নদিয়ার জেলাশাসক মহুয়াকে যে নোটিস দিয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত৷ বিচারপতি বাগচীর পর্যবেক্ষণ, ‘চিঠির প্রথম অনুচ্ছেদটিকে প্রতিহিংসাপরায়ণ বলে মনে হচ্ছে৷’ রাজ্যের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘এটি কোনও সাংসদকে উদ্দেশ করে লেখা হয়নি। জেলার সমস্ত জনপ্রতিনিধির জন্যই এটি প্রযোজ্য।’ বিচারপতি বাগচী তখন বলেন, ‘আমরা চাই, আপনারা এটি প্রত্যাহার করে নিন।’ সিজেআই সূর্য কান্তের পর্যবেক্ষণ, ‘এই ধরনের বিরোধ সাধারণত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আসা উচিত নয় এবং এর জন্য কেবল একটি ছোট এসওপি-র প্রয়োজন।’ তিনি পরামর্শ দেন যে, সার্কিট হাউস বুকিংয়ের এক সপ্তাহ বা ১০ দিন আগে জানানোর কোনও প্রয়োজন নেই। নোডাল অফিসারের মাধ্যমে ৮ ঘণ্টা বা এক দিন আগে জানালেই যথেষ্ট।
এ দিন রাজ্যের তরফে একটি হলফনামা পেশ করে মেহতা দাবি করেন, সেই সময়ে সার্কিট হাউসে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছিল। দু’জন অফিসার দু’টি ঘরে ছিলেন, তা ছাড়া অন্য কাউকে কোনও ঘর বরাদ্দ করা হয়নি। মহুয়া মৈত্রকে একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত জেলাশাসক তাঁকে অন্য একটি সরকারি অতিথি ভবনে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সব রকম সৌজন্য বজায় রাখা হয়েছিল। মহুয়ার আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন বলেন, ‘সার্কিট হাউসে একটি–দু’টি নয়, মোট ২০টি ঘর ছিল৷ সেই সব ঘরে একাধিক সরকারি আধিকারিক ছিলেন, কিন্তু তাঁদের কাউকেই ঘর খালি করতে বলা হয়নি৷ কিন্তু এক জন সাংসদকে মাঝরাতে আচমকা নোটিস দিয়ে ঘর খালি করতে বলা হয়েছে৷’ সওয়াল–জবাব শেষে আদালত জানায়, উভয় পক্ষের পারস্পরিক সমন্বয় থাকলে এই ধরনের বিতর্ক এড়ানো সম্ভব হতো৷ আগামী দিনে যাতে এমন কোনও ঘটনা না–ঘটে, সে দিকে নজর রেখে প্রোটোকল ভিত্তিক সার্কিট হাউস বুকিংয়ের নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷
