নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পি.আই. ওশান টেক্স গার্মেন্টের মালিকের কাছে ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন এইচএএম মাহমুদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। একইসঙ্গে গার্মেন্ট মালিক মো. তৈয়ব মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। দেয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকিও।
গতকাল দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন পি.আই. ওশান টেক্সের মালিক। লিখিত বক্তব্যে গার্মেন্টস মালিক তৈয়ব মিয়া বলেন, আমার বৈধ সম্পত্তির মালিকানা, চাঁদা না দেয়ায় ১০ ফুট প্রশস্ত এজমালি রাস্তার ব্যবহারাধিকার, কারখানার প্রবেশপথ বন্ধের পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার জমির মালিকানার ধারাবাহিকতা নিবন্ধিত পারিবারিক বণ্টননামা ও পরবর্তী দলিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত। সংশ্লিষ্ট দলিলগুলোতে ১০ ফুট প্রশস্ত এজমালি রাস্তার উল্লেখ রয়েছে। ১৯শে এপ্রিল ২০২২ তারিখের নিবন্ধিত সাফ কবলা দলিল নং ৫২৬১ এর মাধ্যমে মো. এমদাদ হোসেনের কাছ থেকে ১৯৬ নম্বর দাগে ৭ শতাংশ এবং ২১৬ নম্বর দাগে ১০ শতাংশসহ মোট ১৭ শতাংশ জমি ক্রয় করি। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের নামজারি মামলার মাধ্যমে জমি নামজারি ও জমাভাগ করি এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসছি।
তিনি বলেন, হঠাৎ ২০২৬ সালের মার্চ মাসে জনৈক এইচ এ এম মাহমুদুর রহমান নামক এক ব্যক্তি আমার প্লটের সম্মুখে ৭ শতাংশ জায়গার জাল দলিল পত্রের মাধ্যমে তথ্য গোপন করে মালিকানা লাভ করে, আমার কাছ থেকে ৭৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি বলেন, ‘এখানে ব্যবসা করতে হলে আমাকে টাকা দিতে হবে’। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমার ফ্যাক্টরির চলাচলের রাস্তা এবং আমার ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। পরবর্তীতে ফ্যাক্টরিতে হামলা করে শ্রমিক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ফ্যাক্টরি থেকে বের করে দেয়। এতে ফ্যাক্টরিটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আমার নামে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে।
তিনি বলেন, আমি রাস্তার অধিকার বজায় রাখার জন্য দেওয়ানি আদালতে একটি মামলা করি। এতে সে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার ফ্যাক্টরির রাস্তায় ৮-১০ ফুট দেয়াল নির্মাণ করে এবং ঢালাইকৃত রাস্তার উপর ময়লা আবর্জনা, বয়লারের বর্জ্য ফেলে রাস্তা ঢেকে ফেলে ও আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। উঁচু দেয়াল নির্মাণের কারণে যাতায়াত এবং উৎপাদন কর্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে শ্রমিকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিদিন বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার ও রপ্তানি চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে। কারখানা পরিচালনার জন্য ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
তৈয়ব বলেন, গত ৭ই এপ্রিল এ ঘটনায় আমি ফতুল্লা থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। পরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানকে বিষয়টি জানালে তিনি কারখানা পরিদর্শন করেন। কিন্তু আমার অভিযোগ অনুযায়ী পরিদর্শনের পরও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাইনি। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আদালতে আমার বিরুদ্ধে একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কারখানার প্রবেশপথ সচল করার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তৈয়ব।
