জালালাবাদ ডেস্ক: দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ধ্বংসের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে যন্ত্রটির ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও আইনি জটিলতা ও বিভিন্ন তদন্তের কারণে এত দিন এগুলো সংরক্ষণ করতে হচ্ছিল কমিশনকে। এতে গুনতে হয়েছে গুদাম ভাড়াসহ বিপুল অর্থ। সম্প্রতি কমিশন সভায় মামলা ও তদন্তের আলামত হিসেবে প্রয়োজনীয় ইভিএম সংরক্ষণ করে বাকিগুলো ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, বর্তমানে কমিশনের কাছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪০১টি ইভিএম রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫৯৯টি মেশিন খোয়া গেছে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে (বিএমটিএফ) সংরক্ষিত ইভিএমের গুদাম ভাড়া বাবদ বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ কোটি টাকা। এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন গোডাউনে রাখা মেশিনগুলোর জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। নির্বাচন ভবনের বেজমেন্টসহ দুটি উপজেলা নির্বাচন অফিসে আগুনে ১৫৭টি ইভিএম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যেভাবে শুরু, যেভাবে শেষ
বাংলাদেশে ইভিএম ব্যবহারের যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। পরে কে এম নূরুল হুদা কমিশনের সময়ে এর ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৮ সালে দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ছয়টি আসনে যন্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা নেয় কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন। এ জন্য ৮ হাজার ৭১১ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করা হলেও আর্থিক সংকটে সরকার তাতে সম্মতি দেয়নি। পুরোনো ইভিএমের কার্যকারিতা যাচাইয়ে প্রায় ৪০ হাজার যন্ত্র ব্যবহার অনুপযোগী পাওয়া যায়। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার মেশিন মেরামতে প্রয়োজন ছিল ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। অর্থের সংস্থান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ব্যালট পেপারেই ভোট গ্রহণ করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়িত্ব নেওয়া এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধিমালা থেকেও এ-সংক্রান্ত বিধান বাদ দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, কমিশনের শুরুর দিকেই ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু যন্ত্রগুলো রয়ে যাওয়ায় নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এগুলোর নিষ্পত্তি চায় কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ইভিএম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত, অডিট এবং জাতীয় পর্যায়ের তিনটি নির্বাচনসংক্রান্ত পর্যালোচনা চলছে। এসব প্রক্রিয়ায় প্রয়োজন হতে পারে, এমন যন্ত্রগুলো সংরক্ষণ করা হবে।
এদিকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে ইভিএম-সংক্রান্ত মামলা, নির্বাচনী এলাকা, ব্যবহৃত মেশিনের সংখ্যা এবং গুদাম ভাড়ার বকেয়া বিষয়ে তথ্য চেয়েছে ইসি। প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণের পর অবশিষ্ট ইভিএম ধ্বংসের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আর্থিক ও প্রশাসনিক বোঝা থেকে মুক্তি পেতে চায় সংস্থাটি।
