Published on
:
2 min read
ইয়েমেনের দক্ষিণে শাবওয়া প্রদেশের সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। অভিযোগের তির ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। সোমবারের এই হামলায় অন্তত ৫৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন। গুরুতর জখম কমপক্ষে ২০০ জন জওয়ান। সূত্রের খবর, হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। ঘটনার জেরে সৌদি আরবেও তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা সঙ্কট। পরিস্থিতি এতটাই বিগড়ে গিয়েছে যে, রিয়াধে পূর্ব নির্ধারিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে সৌদি প্রশাসন।
একনজরে
ইয়েমেনের দক্ষিণে শাবওয়া প্রদেশের সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন।
হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন কমপক্ষে ২০০ জন জওয়ান। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথি গোষ্ঠী।
প্রশিক্ষণ শিবিরে সদ্য যোগ দেওয়া সেনাদের প্রশিক্ষণ চলাকালীন এই হামলা চালানো হয়।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি হামলাকে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ বলে উল্লেখ করেছেন এবং কঠোর প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
প্রশিক্ষণ চলাকালীন রক্তক্ষয়ী হামলা, আরও বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা
শাবওয়া প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিবিরে সদ্য যোগ দেওয়া জওয়ানদের প্রশিক্ষণ চলার সময়েই এই হামলা চালানো হয়। আহতদের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এই ঘটনাকে প্ররোচনামূলক আগ্রাসন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। হামলার মোকাবিলায় সেখানকার রাষ্ট্রপতি, সরকার ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ মোতায়েনের আবেদন জানিয়েছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি ঘটনাকে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সৌদি আরবে বাতিল বিনিয়োগ সম্মেলন, স্কুলগুলিতে অনলাইন ক্লাস
হুথিদের লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে সৌদি আরবেও তৈরি হয়েছে বড়সড় অস্থিরতা। ঝুঁকি এড়াতে আগামী সপ্তাহে হতে চলা বিশ্ব বিনিয়োগ সম্মেলন বাতিল করেছে রিয়াধ। পাশাপাশি রাজধানী রিয়াধ ও তার সংলগ্ন এলাকার সমস্ত স্কুলে অনলাইনে পঠনপাঠনের নির্দেশ জারি হয়েছে। সম্প্রতি আরামকো-র তেলের ডিপো, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক হামলার চেষ্টা চালায় বিদ্রোহীরা। সোমবারও সৌদির তেল পরিকাঠামো ও বিমানবন্দরে ছ’টি হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি হুথিদের। কিন্তু এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর নেই। রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, তেহরান অস্বীকার করলেও ইরান এবং লেবানন ও ইরাকের শরিকরাই হুথিদের উন্নত অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।
বিমানহানা, জলপথ দখলের লড়াই ও মার্কিন বন্দি মুক্তি
এর আগে রবিবার উত্তর ইয়েমেনের সাদা প্রদেশে সৌদি জোটের বিমান হানায় পাঁচ শিশু ও দুই মহিলা-সহ অন্তত ন’জনের মৃত্যুর অভিযোগ তোলে হুথিরা। ২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী লড়াই ২০২২ সালের যুদ্ধ বিরতিতে কিছুটা শান্ত থাকলেও, চলতি বছর ফের পুরোদমে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালীর বাণিজ্যিক জলপথের সংলগ্ন এলাকা দখল করেছে বিদ্রোহীরা। পাল্টা অভিযান শুরু করেছে সৌদি জোটও। এরই মাঝে সোমবার সানা-র মার্কিন দূতাবাস থেকে আটক হওয়া ২০ জনেরও বেশি স্থানীয় কর্মীকে অবিলম্বে ও নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়ার কড়া দাবি জানিয়েছে আমেরিকা।
FAQ
১. প্রশ্ন: ইয়েমেনের কোথায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে?
উত্তর: ইয়েমেনের দক্ষিণে শাবওয়া প্রদেশের একটি সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।
২. প্রশ্ন: এই হামলায় কতজন সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন?
উত্তর: হামলায় অন্তত ৫৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং কমপক্ষে ২০০ জন জওয়ান গুরুতর জখম হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৩. প্রশ্ন: হামলার জন্য কাদের দায়ী করা হচ্ছে?
উত্তর: ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের খবর, হুথি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে।
৪. প্রশ্ন: সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে হামলার সময় কী চলছিল?
উত্তর: শাবওয়া প্রাদেশিক সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, সদ্য যোগ দেওয়া জওয়ানদের প্রশিক্ষণ চলার সময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি চালানো হয়।