ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। রাত নামলেই অপরাধীদের অপরাধে হয়ে ওঠে ভয়ংকর। প্রায় প্রতিরাতেই এই পথের পথিকরা হচ্ছেন ছিনতাই, হামলা, লুটপাটের শিকার। ঘটছে হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনাও।
গেল ২৪ এপ্রিল কুমিল্লার বাসার কাছাকাছি এসে মহাসড়ক থেকেই নিখোঁজ হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। পরদিন কোটবাড়ি এলাকায় পাওয়া যায় তার মরদেহ। সিসিটিভি ফুটেজে মেলে ছিনতাই ও হত্যার প্রমাণ।
সবশেষ এই মহাসড়কে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ইসকুল শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন। স্থানীয়রা বলছেন, দেশের অর্থনীতির লাইফলাইনখ্যাত এই মহাসড়ক দিন দিন অপরাধীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পোদ্দার বাজার বিসি রোড বলুন কিংবা আলেকজান্ডার রোড বলুন, এসব এলাকার সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় জড়িত থাকেন।
এই পথে গাড়ি চালাতে গিয়ে আতঙ্কে আছেন পরিবহন চালকেরাও। বলছেন, সড়কের পাশে ওঁত পেতে থেকে সুযোগ বুঝে হামলে পড়ে ডাকাতদল। নগদ টাকার পাশাপাশি ছিনিয়ে নেয় মালামালও।
গাড়িচালকেরা জানান, আগে ভাড়া নিয়ে দূরদূরান্তে যাতায়াত করেছি, কিন্তু কোনো সমস্যা হয়নি। এখন ভাড়া নিয়ে কোথাও যেতে খুব ভয় লাগে। ডাকাতদের ভয়ে সাধারণ মানুষও এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লার নাগরিক অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরান বলেন, যেভাবে পুলিশি টহল থাকার প্রয়োজন, সেভাবে টহল নেই। বর্তমানে যে পরিমাণ টহল রয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ ছাড়া টহল পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়েও সব সময় দায়িত্বহীনতার প্রশ্ন থেকে যায়।
বিশ্লেষণ বলছে, নারায়ণগঞ্জের ছয়টি, মুন্সীগঞ্জের দুটি এবং কুমিল্লার ছয়টি পয়েন্ট বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কে রাতভর টহলের কথা জানালেও কতটুকু কমেছে অপরাধ? তার হিসাব নেই হাইওয়ে পুলিশের কাছে।
তবে কুমিল্লা রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, হাইওয়ের একটি নির্দিষ্ট জায়গার পর থেকে মহাসড়কের পাশে আমাদের আর কোনো এখতিয়ার থাকে না। মূলত ওই এলাকার দায়িত্ব জেলা পুলিশের। তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। আমরা যদি উভয় পক্ষের দুই দল একসঙ্গে কাজ না করি, তাহলে এ অপরাধ নির্মূল করার সুযোগ থাকে না।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির তথ্যমতে, গেল পাঁচ মাসে কুমিল্লায় ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি ও খুনের ঘটনা ঘটেছে ১২৩টি।
