চীনের আমদানি ও রফতানি— দুটিই গত সেপ্টেম্বরে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বেড়েছে। এতে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ফের নতুন রেকর্ড গড়ার পথে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ৯৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বছরের শেষ তিন মাসে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে না গেলে বছর শেষে এ উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।
চীনের শুল্ক বিভাগের সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যনুযায়ী, গত মাসে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির রফতানি বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ। আগের মাসে রফতানি বৃদ্ধির হার ছিল ২৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিবিদদের ২৫ দশমিক ৫ শতাংশের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির পর সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা চীনের রফতানি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এসব পণ্যের ক্রয়াদেশ বাড়ায় দেশটির কারখানাগুলোয় উৎপাদন কার্যক্রম সচল রয়েছে।
চীনের আমদানিও বেড়েছে সেপ্টেম্বরে। গত মাসে আমদানি বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ শতাংশ। গত আগস্টে আমদানি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২৮ দশমিক ২ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে আমদানি বৃদ্ধির হার অর্থনীতিবিদদের ২৪ দশমিক ৫ শতাংশের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি।
চীনের শুল্ক বিভাগের উপমন্ত্রী ওয়াং জুন বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক সংঘাতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা দেশটির বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকেও রফতানি ও আমদানি বৃদ্ধির পেছনে শক্তিশালী ভিত্তি ও সহায়ক পরিস্থিতি রয়েছে।’
এদিকে চীন গত বছরের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করে। পুরো ২০২৫ সালে দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় রেকর্ড ১ দশমিক ১৮৯ ট্রিলিয়ন ডলারে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এ উদ্বৃত্ত হয়েছে ৯৩৮ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। ফলে বছর শেষে নতুন রেকর্ডের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
