আফগানিস্তানের তরুণ ওপেনার সেদিকুল্লাহ অতল বাংলাদেশের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত একমাত্র টেস্ট ম্যাচে টেকনিক্যাল পরিবর্তনের সুফল হাতেনাতে পেয়েছেন। ম্যাচের শেষ দিনে বাংলাদেশের জয় থেকে মাত্র সাত উইকেট দূরে থাকা সত্ত্বেও, বাঁহাতি এই ওপেনারের ম্যারাথন ইনিংসের সুবাদে দুর্দান্ত এক ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফগানিস্তান।
ম্যাচে ৩৩২ বলে ১১১ রানের এক অবিস্মরণীয় ইনিংস খেলেন সেদিকুল্লাহ অতল। নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকানোর পথে তিনি ৯টি চার এবং ৩টি ছক্কা হাঁকান। মূলত সাদা বলের এই ক্রিকেটারের রক্ষণাত্মক কৌশল মজবুত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন ব্যাটিং কোচ টবি রেডফোর্ড।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টবি রেডফোর্ড জানান, প্রথম ইনিংসে একটু দূরের বল খেলতে গিয়ে উইকেটে আটকে গিয়েছিলেন অতল। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি সেই ভুল সংশোধন করেন। রেডফোর্ডের মতে, শেষ দিনে অতল তার গার্ড পরিবর্তন করে স্টাম্পের আরও সামনে আসেন এবং তার মাথা ও শরীরের ওজন বলের লাইনে সঠিকভাবে নিয়ে আসেন। এর ফলে তিনি স্ট্রেইট ব্যাটে খেলতে এবং অফ স্টাম্পের বলগুলো চমৎকারভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। স্পিনারদের বিপক্ষে লেংথ বেছে নেওয়া এবং সামনে ও পেছনে দুর্দান্ত ফুটওয়ার্কই তাকে এই সফলতার পথ দেখিয়েছে।
এদিকে আফগানিস্তানের প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস এই সাফল্যের সমস্ত কৃতিত্ব টবি রেডফোর্ড ও সেদিকুল্লাহ অতলকেই দিয়েছেন। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পাইবাস বলেন, দলের কৌশল ছিল সেশনগুলো নিয়ন্ত্রণ করা, যদিও কিছু সময়ে তারা ছন্দ হারিয়েছিলেন। তবে অতলের এই অসাধারণ ইনিংস এবং দলের প্রথম ইনিংসে রহমতের সেঞ্চুরির পেছনে ব্যাটিং কোচ টবির অবদান অনস্বীকার্য। টবি একজন দারুণ টেকনিক্যাল কোচ যিনি ব্যাটারদের ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ না করেই সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে জানেন। টেস্ট ক্যারিয়ারের সবেমাত্র শুরু করা অতলের জন্য এই আত্মবিশ্বাস আগামী দিনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
