ঢাকা,২২ অক্টোবর-আফগানিস্তানের বিপক্ষে গতকাল ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির পথ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ইমরুল কায়েস বলেন, বাংলাদেশের খেলা দেখে তিনি ভীষণ মর্মাহত হয়েছেন। ব্যস্ততার কারণে সব সময় খেলা দেখার সুযোগ হয় না তার। তবে গতকাল অনেক আশা নিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতে বসেছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, দলের পারফরম্যান্স দেখে তার মনে হয়েছে, বাংলাদেশ যেন আবার ২০০৬-২০০৮ সালের ক্রিকেটের জায়গায় ফিরে গেছে। এত বছর পরও যদি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাহলে উন্নতির পথ আসলে কোথায়, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ইমরুল কায়েস।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রত্যাশা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করতে পারেনি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে এই ঘাটতি বেশি চোখে পড়েছে। তার মতে, এর অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব, দল গঠনে ধারাবাহিকতা না থাকা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা ইগোর প্রভাব।
ইমরুল কায়েসের মতে, কে দলে থাকবেন, কে বাদ পড়বেন এবং কাকে সুযোগ দেওয়া হবে—এসব সিদ্ধান্ত যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বদলে তাৎক্ষণিক ফলাফল বা ব্যক্তিগত বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয়, তাহলে শক্তিশালী দল গড়ে তোলা কঠিন।
তিনি বলেন, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের জন্য একটি আন্তর্জাতিক দলকে প্রস্তুত করতে অন্তত চার বছরের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। সেই পরিকল্পনার আওতায় খেলোয়াড় নির্বাচন, ব্যাটিং অর্ডার, দলের কম্বিনেশন, নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের দায়িত্ব এবং চাপের মধ্যে খেলার প্রস্তুতি—সবকিছু ধাপে ধাপে গড়ে তুলতে হয়।
তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রায়ই মনে হয়, প্রতিটি সিরিজের ফলাফলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একটি সিরিজ জেতার জন্য হয়তো দলে কিছু পরিবর্তন আনা হয়, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় এবং সাময়িক সাফল্যও পাওয়া যায়। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের জন্য একটি সুসংগঠিত, আত্মবিশ্বাসী ও ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তোলার কাজ পিছিয়ে পড়ে বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার।
ইমরুল কায়েস আরও বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটে ব্যক্তির চেয়ে দলকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যারা বোর্ডে দায়িত্ব পালন করছেন, নির্বাচক হিসেবে কাজ করছেন কিংবা দল পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের সবার প্রতি তার বিনীত অনুরোধ, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, মতের পার্থক্য ও ইগোর ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থকে সবার আগে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা পদ স্থায়ী নয়, কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট সবার।
ইমরুল কায়েস বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাছে তার খুব বেশি কিছু চাওয়ার নেই। তিনি শুধু চান, বাংলাদেশ দল ভালো ক্রিকেট খেলুক, নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করুক এবং বিশ্বমঞ্চে এমন পারফরম্যান্স করুক, যা দেখে দেশের মানুষ গর্ব করে বলতে পারে যে বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলছে।
এস এম/ ২২ অক্টোবর ২০২৬
