ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের পাশাপাশি সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সম্ভাব্য বিক্ষোভ ঘিরে বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ ও জেন্ডারমেরির (সামরিক বাহিনী) সদস্যদের আরও বেশি সংখ্যায় মাঠপর্যায়ে কাজ করার সুযোগ করে দিতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। এজন্য ফ্রান্সের সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা অভিযান ‘অপারেশন সান্তিনেল’-এর সেনাদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
নুনেজ বলেন, সেনাদের দায়িত্ব হবে মূলত নির্দিষ্ট স্থানে স্থির অবস্থানে থেকে নিরাপত্তা দেওয়া। এর ফলে পুলিশ ও জেন্ডারমেরির সদস্যরা জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।
২০১৫ সালের জানুয়ারিতে চালু হওয়া অপারেশন সান্তিনেলের আওতায় ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।
বিজ্ঞাপন
সাধারণত ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পর্যটনকেন্দ্র, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বাইরে সেনাদের মোতায়েন করা হয়। এর আগে প্যারিসে ২০২৪ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমসের সময়ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন সান্তিনেল অভিযানের সেনারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শনিবারের (২৪ অক্টোবর) বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত স্থান পরিবর্তনে সক্ষম হতে হবে। কারণ, বিক্ষোভকারীদের ছোট ছোট দল বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যেতে পারে।
এছাড়া আগে থেকে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে আয়োজন করা এমন বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার, যেগুলো থেকে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান নুনেজ।
বিজ্ঞাপন
ফ্রান্সে নিয়ম অনুযায়ী, বিক্ষোভ আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে জানাতে হয়। তবে আগাম ঘোষণা দেওয়া বিক্ষোভও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে। এক্ষেত্রে আয়োজক বা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলে, যাতে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দূর হয়, তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অন্যদিকে, যেসব বিক্ষোভে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা নেই, সেগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি ভবন ও প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক এড়িয়ে মিছিলের পথ নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নুনেজ। একই সঙ্গে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাব্য সংখ্যা এবং বিশেষ করে উগ্রপন্থি অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজাতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে নুনেজ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে থাকবো।’
সূত্র: ইউরো নিউজ
এসএএইচ
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
